টানা দু’ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালস-এর। এবার লক্ষ্য পরিষ্কার—জয়ের হ্যাটট্রিক। সেই ভাবনাতেই বুধবার নিজেদের মাঠে নামছে তারা, প্রতিপক্ষ গুজরাত টাইটান্স। তবে গুজরাতও একেবারে নিশ্চুপ নয়। শুরুতে দু’ম্যাচ হেরে চাপে থাকলেও, অধিনায়ক শুভমান গিল চোট কাটিয়ে ফিরছেন—যা দলকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।
দিল্লির শুরুটা ভালো হওয়ার পেছনে বড় অবদান সমীর রিজভি-র। ব্যাটিংয়ের যে ফাঁকফোকর ছিল, সেটা অনেকটাই ঢেকে দিয়েছেন তিনি। তবে লোকেশ রাহুল আর নীতীশ রানা এখনো নিজেদের ছন্দে ফিরতে পারেননি, সেটাই একটু চিন্তার জায়গা। বিশেষ করে রাহুল টানা দু’ম্যাচেই ব্যর্থ। যদিও মাঝের দিকে ডেভিড মিলার আর ট্রিস্টান স্টাবস থাকায় ভরসা রয়েছে। অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল নিজেও ব্যাট হাতে কাজে লাগছেন, সঙ্গে স্পিনে বিপরাজ নিগমও অবদান রাখছেন।
বোলিংয়ে দিল্লি তিন পেসার আর তিন স্পিনার নিয়ে নামছে। নতুন বলে মুকেশ কুমার আর লুঙ্গি এনগিডি শুরুটা সামলাচ্ছেন। শেষের ওভারগুলোতে দায়িত্ব থাকছে টি নটরাজন-এর ওপর। তবে আসল ভরসা স্পিনেই—অক্ষর, কুলদীপ যাদব আর বিপরাজ মিলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করবেন।
অন্যদিকে, গুজরাতের ব্যাটিংয়ে বড় ভরসা শুভমান গিল। তাঁর অনুপস্থিতি গত ম্যাচে বেশ বোঝা গিয়েছিল। ওপেনিংয়ে গিল আর সুদর্শন একসঙ্গে নামলে দল অনেকটাই স্বচ্ছন্দ থাকে। সুদর্শন আগের ম্যাচে ৭৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন, সেই ফর্ম থাকলে দিল্লির বোলারদের কাজ সহজ হবে না। মাঝের সারিতেও জস বাটলার, গ্লেন ফিলিপস, রাহুল তেওয়াটিয়া, ওয়াশিংটন সুন্দর—অনেক বিকল্প রয়েছে। যদিও তরুণ কুমার কুশাগ্র গত ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
বোলিং বিভাগে গুজরাত যথেষ্ট শক্তিশালী। পেস আক্রমণে কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ সিরাজ আর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা রয়েছেন। স্পিনে তো আছেনই রশিদ খান—যিনি বল হাতে তো বটেই, ব্যাট হাতেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে ফর্মে থাকা দিল্লি, অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা গুজরাতের—ম্যাচটা যে জমবে, তা বলাই যায়।

Social Plugin