ঘরের মাঠে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে শীর্ষে উঠতে মরিয়া আরসিবি

বেঙ্গালুরুতে এবার ম্যাচটা জমে উঠতেই পারে। মুম্বইকে হারানোর পর আরসিবি শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাস বেশ চড়া। চারটে ম্যাচ খেলে তিনটাতেই জিতেছে তারা, ফলে ছন্দটা স্পষ্টই তাদের দিকেই।

বুধবার ঘরের মাঠে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে নামছে বিরাট কোহলির দল। জিততে পারলে সরাসরি শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে। এখন পয়েন্ট টেবিলে রাজস্থান এগিয়ে, পাঁচ ম্যাচে আট পয়েন্ট। পাঞ্জাবও কাছাকাছি। আরসিবির পয়েন্ট ছয়, তবে তাদের নেট রান রেট বেশ ভালো। তাই এই ম্যাচটা জিতলে হিসেবটা একেবারে বদলে যেতে পারে।

ব্যাটিংয়ে আরসিবি এখন বেশ শক্তিশালী দেখাচ্ছে। ফিল সল্ট আবার ফর্মে ফিরেছেন—গত ম্যাচেই ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। কোহলি আর রজত পাতিদারও নিয়মিত রান পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে টপ অর্ডারটা ভরসা জোগাচ্ছে। তার ওপর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ছোট বাউন্ডারি—এখানে রান উঠতেই থাকে। তাই আরেকটা হাই-স্কোরিং ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মিডল অর্ডারেও শক্তি আছে—টিম ডেভিড, জিতেশ শর্মা, রোমারিও শেফার্ড—এরা যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বোলিংয়ে অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমার আছেন, সঙ্গে ক্রুণাল পান্ডিয়া আর সুয়াশ শর্মা স্পিন সামলাচ্ছেন।

অন্যদিকে লখনউ একটু চাপে আছে। আগের ম্যাচে হেরে গেছে, আর ওপেনারদের ফর্মও চিন্তার কারণ। মার্করাম আর মিচেল মার্শ কেউই ঠিকমতো শুরুটা দিতে পারছেন না। ফলে অধিনায়ক ঋষভ পন্থের ওপর চাপ বাড়ছে। নিকোলাস পুরানকেও ব্যাটিং অর্ডার বদলাতে হয়েছে, কিন্তু তাতেও খুব একটা সুবিধা হচ্ছে না।

তবে দল হিসেবে লখনউকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। একবার শুরুটা পেয়ে গেলে ওদের ব্যাটাররাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তার ওপর মুকুল চৌধুরির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা চলছে—তিনিও নজরে থাকবেন।

বোলিংয়ে লখনউয়ের মূল ভরসা মহম্মদ সামি। তার গতি আর বৈচিত্র এখনও কার্যকর। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সাহায্য মিলছে না। প্রিন্স যাদব, আভেশ খান এখনও পর্যন্ত তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। স্পিনে দিগ্বেশ রাঠির ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে লড়াইটা বেশ হাড্ডাহাড্ডিই হওয়ার কথা। তবে ফর্ম আর পরিস্থিতি—এই দুই দিক থেকেই আপাতত একটু এগিয়েই নামছে বেঙ্গালুরু।