বিশ্বকাপের আগে বিতর্কের ঝড়, আমেরিকায় পৌঁছে কড়া তল্লাশির মুখে সেনেগাল ও উজবেকিস্তান দল

বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল আয়োজক দেশ আমেরিকা। সেনেগাল ও উজবেকিস্তান দলের ফুটবলারদের প্রকাশ্যে তল্লাশির ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। শুধু সাধারণ নিরাপত্তা পরীক্ষা নয়, খেলোয়াড়দের ব্যাগপত্র খুঁটিয়ে দেখা থেকে শুরু করে মাদক অনুসন্ধানী কুকুরের ব্যবহার— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে।

এর আগেও আমেরিকার অভিবাসন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল। ইরাক দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করা হয়। অন্যদিকে, সেনেগালের আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। এসব ঘটনার পর থেকেই ফুটবল মহলে অস্বস্তি বাড়ছিল।

সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয় সেনেগাল দলের আগমনের পর। অভিযোগ, বিমান থেকে নামার পরই রানওয়ের পাশে নিরাপত্তাকর্মীরা ফুটবলারদের তল্লাশি শুরু করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিমানবন্দরের মূল অংশে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। দলের সদস্যদের সমস্ত লাগেজ খুলে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়।

উজবেকিস্তান দলের ক্ষেত্রেও প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা সামনে এসেছে। নিউ ইয়র্কের আইকান স্টেডিয়ামে অনুশীলনের জন্য পৌঁছানোর পর ফুটবলার ও সহায়ক কর্মীদের কড়া নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেখানে মাদক অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করে প্রত্যেকের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু ফুটবলপ্রেমীর দাবি, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন আচরণ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা উচিত ছিল।

এই ঘটনার জেরে ফিফার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার নিরাপত্তা নীতির কারণে যদি বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা বা রেফারিরা সমস্যার মুখে পড়েন, তবে সে বিষয়ে ফিফার আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ইরানের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দেশের দল আমেরিকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।