সনের কাঁধে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বপ্ন, দুই দশক পর বিশ্বকাপে ফেরা চেকিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষা

বিশ্বকাপের মঞ্চ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে নতুন নয়। এবার নিয়ে ১২তম বার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের মূলপর্বে খেলতে নামছে এশিয়ার এই শক্তিশালী দল। ২০০২ সালে ঘরের মাঠে চতুর্থ স্থান অর্জনই এখনও তাদের সেরা সাফল্য। সেই ইতিহাসকে ছাপিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই এবার মাঠে নামছেন সন হিউং মিনরা।

শুক্রবার মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষ চেকিয়া। দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরেছে ইউরোপের দলটি। ফলে দুই দলের কাছেই এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা নিঃসন্দেহে অধিনায়ক সন হিউং মিন। আগামী মাসেই ৩৪ বছরে পা দেবেন তিনি। দেশের জার্সিতে সর্বাধিক ১৪৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। শুধু তাই নয়, ৫৬টি গোল করে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। বড় মঞ্চে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বই দলের অন্যতম শক্তি।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগালকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে এবার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। সনের পাশাপাশি আক্রমণভাগে রয়েছেন Lee Kang-in এবং Hwang Hee-chan। দু’জনেই সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত গোল করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন।

অন্যদিকে, চেকিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসও কম সমৃদ্ধ নয়। ১৯৩৪ এবং ১৯৬২ সালে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা, যদিও তখন দলটি খেলত Czechoslovakia নামে। তবে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর দীর্ঘ দুই দশক ধরে আর বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে দেখা যায়নি তাদের।

এবার ইউরোপীয় যোগ্যতা অর্জন পর্বে প্লে-অফের বাধা টপকে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে চেকিয়া। দলের প্রধান আক্রমণাত্মক অস্ত্র Patrik Schick। মাঝমাঠে রয়েছেন Tomáš Souček এবং Vladimír Coufal-এর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার। কোচ Miroslav Koubek-এর অধীনে দলটি যে চমক দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

একদিকে সনের নেতৃত্বে উচ্চাভিলাষী দক্ষিণ কোরিয়া, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে ফেরা চেকিয়া। সব মিলিয়ে গুয়াদালাজারার ম্যাচটি হতে পারে গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই।