লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডার যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনা

লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে পাইলট আর কো-পাইলটের মৃত্যুর খবর থেকে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকেই—দুই দমকলকর্মীসহ মোট ৪১ জনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।

ঘটনাটা ঘটেছে নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে, অবতরণের একেবারে শেষ মুহূর্তে। এয়ার কানাডার একটি যাত্রীবাহী বিমান রানওয়েতে নামার সময় হঠাৎই সামনে পড়ে যায় একটি দমকলের ট্রাক। সংঘর্ষ এড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল না।

বিমানটি আসছিল মন্ট্রিল থেকে। ‘এসি ৮৬৪৬’ নম্বরের এই ফ্লাইটটি জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালনা করছিল, মডেল ছিল সিআরজে-৯০০। বোর্ডে ছিলেন ৭২ জন যাত্রী আর চারজন ক্রু। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, অন্তত বাইরে থেকে তাই মনে হচ্ছিল।

এর কয়েক মিনিট আগে আরেকটা ঘটনা ঘটে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের ভেতর থেকে অদ্ভুত এক গন্ধের অভিযোগ আসে। সেটার খোঁজ নিতে পোর্ট অথরিটির দমকলের একটি ট্রাক দ্রুত রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই, রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে, এই দুই যান একসঙ্গে একই জায়গায় পড়ে যায়।

পরে অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, শুরুতে দমকল ট্রাকটিকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এয়ার কানাডার বিমানটি যখন দ্রুত এগিয়ে আসতে থাকে, তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে ট্রাকটিকে থামতে বলা হয়। শেষ মুহূর্তে বারবার চিৎকার করে বলা হচ্ছিল—“থামো! থামো!” কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি খুব বেশি গতিতে ছিল না—ঘণ্টায় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার। তবু সেই গতিতেই সংঘর্ষটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটা কেন ঘটল? তদন্ত এখনো চলছে, তবে প্রাথমিকভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ের দিকে। সাধারণত রানওয়ে ব্যবহার নিয়ে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল আর টাওয়ার কন্ট্রোলের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম সমন্বয় লাগে। একটি যানবাহনকে রানওয়েতে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হয় যে সেটি সম্পূর্ণ ফাঁকা।

অনেকে বলছেন, এখানেই হয়তো কোথাও একটা গলদ ছিল।

মার্কিন পরিবহন বিভাগের সাবেক মহাপরিদর্শক মেরি শিয়াভো এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বিমানবন্দরের মাটিতেই অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে, এবং এগুলো নতুন কিছু নয়।

আরেকটা দিকও তদন্তে আসতে পারে—সময়টা ছিল রাতের শিফট। এ সময় সাধারণত কর্মীসংখ্যা কম থাকে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, ক্লান্তি—এসব কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, সেটাও দেখা হবে।

সব মিলিয়ে, এমন এক সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আগেই বাড়ছিল। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিমানবন্দর নিরাপত্তায় সহায়তার জন্য আইসের এজেন্টদের কাজে লাগানো হবে।