'অরেঞ্জ লাইন' মেট্রো প্রকল্প আটকে রাখার দায়ে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে কলকাতা মেট্রোর ‘অরেঞ্জ লাইন’ নিয়ে শুনানিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। নিউ গড়িয়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত এই লাইনটি শহরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আলাদা করে বলার দরকার নেই—তবু সেই কাজ বারবার আটকে যাওয়ায় আদালত স্পষ্টই বিরক্ত।

বিচারপতিরা বলেন, একটা জনস্বার্থের প্রকল্পকে এভাবে থামিয়ে রাখার মধ্যে অযথা জেদ কাজ করছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ রাজ্যের করা আবেদন খারিজ করে দেয়। এই আবেদনটি করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের গত ডিসেম্বরের একটি নির্দেশের বিরুদ্ধে।

হাইকোর্ট তখন বলেছিল, চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রোর পিলার বসানোর কাজ এগিয়ে নিতে দু’টি সপ্তাহান্তে রাতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে, আর তার জন্য নির্দিষ্ট দিন ঠিক করতে হবে। রাজ্য সরকার তখন যুক্তি দিয়েছিল, উৎসবের সময়ে এমনটা করা সম্ভব নয়। কিন্তু হাইকোর্ট সেই কথা মানেনি।

সেই প্রসঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, সবকিছুকে রাজনৈতিকভাবে দেখার দরকার নেই—এটা মূলত উন্নয়নের প্রশ্ন।

রাজ্যের তরফে অবশ্য বলা হয়, ওই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স চলে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য জরুরি যানবাহনও যায়—তাই ট্রাফিক বন্ধ করলে সমস্যা হতে পারে। আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয় পরিস্থিতি সামলানোর জন্য। কিন্তু আদালত মনে করে, এতদিনে এই ধরনের ব্যবস্থাপনা ঠিক করে নেওয়া উচিত ছিল।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বিষয়টা এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যেখানে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে এখানে স্পষ্ট গাফিলতি হয়েছে, আর অযথা একটা বিষয়কে বড় করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশে কোনো ভুল নেই। বরং তাদের ধারণা, রাজ্যের আচরণে কাজটা বিলম্বিত করার একটা পরিকল্পিত প্রবণতাই ধরা পড়েছে। আদালত আশা প্রকাশ করে, এবার অন্তত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ হবে।

এদিকে, রাজ্যের আইনজীবী আবেদনটি তুলে নেওয়ার অনুমতি চাইলেও আদালত তাতে রাজি হয়নি।

পুরো বিষয়টির শুরু হাইকোর্ট থেকেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে একটি ডিভিশন বেঞ্চ তখন রাজ্য ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। তাদের পর্যবেক্ষণ ছিল, ট্রাফিক ঘোরানোর অনুমতি দিতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষেরই ক্ষতি হচ্ছে। কাজ পিছোলে খরচ বাড়ে, আর মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়—এই কথাও তারা মনে করিয়ে দেয়।

হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে বলে, আমাদের মতো দেশে যেখানে সারা বছরই কোনো না কোনো উৎসব লেগে থাকে, সেখানে শুধু যানজটের অজুহাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থামিয়ে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।