ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটের ইস্তাহার প্রকাশ মমতার, নাম, '১০ প্রতিজ্ঞা'

বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে নিজের ইস্তাহার প্রকাশ করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, মানুষের জন্য যা যা করার কথা তিনি বলেছিলেন, তার বেশিরভাগই ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। তাঁর কথায়, কাজ করাটাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়, আর সেই জায়গা থেকেই এই প্রতিশ্রুতিপত্র।

এবারের ইস্তাহারের নাম রাখা হয়েছে ‘১০ প্রতিজ্ঞা’। গত পনেরো বছরে সরকারের কাজকর্মের একটা হিসেবও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। মমতা বলেন, তাঁদের দল যা বলে, তা করে দেখানোর চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, বড় কোনও উন্নয়ন এখন আর বাকি নেই বললেই চলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ কাঁচা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় অর্থ বন্ধ থাকলেও কাজ থেমে থাকেনি। একসময় যেখানে মাত্র দুই লক্ষ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছত, এখন তা বেড়ে এক কোটির বেশি বাড়িতে গেছে। খুব শিগগিরই সব বাড়িতে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতা ও টাকার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেন। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা এখন মাসে দেড় হাজার টাকা পাচ্ছেন, আর তফসিলি জাতি ও জনজাতির ক্ষেত্রে বছরে প্রায় কুড়ি হাজার টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার মতো কিছু বিষয় এখনও প্রক্রিয়াধীন, সমীক্ষা চলছে—এগুলোও ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা বলেন মমতা। ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্লক স্তরে ক্যাম্প করে মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে বক্তব্যের বড় একটা অংশ জুড়ে ছিল রাজনৈতিক অভিযোগ। মমতার দাবি, নির্বাচন এলেই নানা ধরনের চক্রান্ত দেখা যায়, আর এবার তা আগের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলা দখলের চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের মানচিত্র বদলের মতো পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

এছাড়া ডিলিমিটেশন, এনআরসি এবং জনগণনার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এসবের মাধ্যমে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। এভাবে সাধারণ মানুষকে আরও বিপদে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন।

শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, প্রতিশ্রুতি অনেক দেওয়া হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর কথায়, দেশে এখন অস্থিরতা বাড়ছে, মানুষের মধ্যে শান্তি নেই। দুই-একজনকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যবস্থাটা চালানো হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।