এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান আঘাত করল ইরান


 ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত দ্রুতই বড় আকার নিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে সরাসরি আঘাত করে যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি ও সামরিক কর্মকর্তার নিহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এর পরপরই তেহরান কড়া জবাব দিতে শুরু করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইসরাইলের বিভিন্ন শহর, সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাতেও আঘাত হানার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এই সংঘাতে শুধু স্থলভাগ নয়, আকাশযুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু আধুনিক ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানোর দাবি সামনে এসেছে। বিশেষ করে একটি ঘটনার কথা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে—খবর অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে কম খরচের একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে আঘাত করেছে। যদিও এই তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবুও বিষয়টি নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, একটি অভিযানের সময় একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমানটি নিরাপদে নেমেছে এবং পাইলটও সুস্থ আছেন। পুরো ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন।

এই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে স্টিলথ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা। এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ মূলত এমনভাবে তৈরি, যাতে রাডারে সহজে ধরা না পড়ে। এর গঠন ও বিশেষ আবরণ রেডিও তরঙ্গকে ছড়িয়ে দেয় বা শোষণ করে, ফলে প্রচলিত রাডারে এটি চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে সব দিক থেকেই এটি অদৃশ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের তাপীয় সংকেত পুরোপুরি লুকানো সম্ভব হয় না। এই জায়গাটাকেই কাজে লাগাতে পারে বিকল্প প্রযুক্তি, যেমন ইনফ্রারেড সেন্সর। এসব সেন্সর রাডারের মতো সংকেত পাঠায় না, বরং লক্ষ্যবস্তুর তাপ শনাক্ত করে। ফলে এগুলো আগে থেকে ধরা পড়ার সুযোগ কম থাকে।

ইরান এই ধরনের প্যাসিভ ইনফ্রারেড ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ধরনের কৌশল ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর কাছেও দেখা গেছে, যারা তুলনামূলকভাবে কম উন্নত প্রযুক্তি দিয়েও কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে না, বরং কে কীভাবে সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেটাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থির ঘাঁটির পাশাপাশি মোবাইল বা সহজে সরানো যায় এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এগুলোকে খুঁজে বের করা কঠিন, আবার ধ্বংস করলেও অল্প সময়ের মধ্যে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিলই হচ্ছে। সংঘাতের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি নতুন নতুন কৌশল ও প্রযুক্তির ব্যবহারও সামনে আসছে। এতে করে ভবিষ্যতে যুদ্ধের ধরন কেমন হতে পারে, সে প্রশ্নটাও আবার নতুন করে উঠছে।