ইরানের শর্ত মেনে : মার্কিন-ইজরায়েলি জাহাজ বাদে অন্যেরা হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে

হরমুজ প্রণালী নিয়ে এবার নিজেদের অবস্থান কিছুটা পরিষ্কার করল তেহরান। ইরানের বক্তব্য, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের সরাসরি শত্রুতা নেই, সেই দেশগুলোর জাহাজ এই জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় নেই—তাদের জাহাজের জন্য এমন নিশ্চয়তা দিচ্ছে না ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে এই বার্তাই দিয়েছে তারা। একই কথা জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সংস্থা আইএমও-কেও।

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার জন্য অনেকদিন ধরেই ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা। এমনকি যুদ্ধ থামানোর শর্ত হিসেবেও বিষয়টি উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, একদিকে যখন ওয়াশিংটন বলছে আলোচনার পথ খুলছে, অন্যদিকে তেহরানের এই কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেকেই মনে করছেন, চাপের পাল্টা জবাব দিতেই এই কৌশল নিয়েছে ইরান।

তবে পুরোপুরি দরজা বন্ধ করছে না তারা। আমেরিকা ও ইজরায়েল ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে, কিন্তু কিছু শর্ত মেনে। ইরান জানিয়েছে, যেসব জাহাজকে তারা ‘শত্রু’ বলে মনে করবে না, তারাই এই প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে আগে থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, ওই জাহাজ কোনওভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে না। এছাড়া ওই এলাকায় ইরান যে নিরাপত্তা বিধি জারি করেছে, তা কঠোরভাবে মানতে হবে।

এখানেই থামেনি তেহরান। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের কোনও জাহাজকেই তারা নিরপেক্ষ বা নিরীহ হিসেবে দেখছে না। তাই তাদের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের কোনও নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ইরানবিরোধী কার্যকলাপের চেষ্টা চলছে। সেই ধরনের উদ্যোগ ঠেকাতে তারা প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক প্রথমে এই বার্তা রাষ্ট্রপুঞ্জের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠায়। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকেও বিষয়টি জানানো হয়। পরে আইএমও-র ১৭৬টি সদস্য দেশকেও একই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

গত সাড়ে তিন সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ায় যে উত্তেজনা চলছে, তার বড় প্রভাব পড়েছে এই হরমুজ প্রণালীতে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথেই যাতায়াত করে, ফলে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে নানা দেশে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথাবার্তায় এই বিষয়টি তুলেছেন। সমুদ্রপথ খোলা রাখার গুরুত্বের কথা বলেছেন তিনি। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও এই প্রণালীতে কোনও রকম বাধার বিরোধিতা করছে। সব মিলিয়ে, এই পরিস্থিতিতে তেহরানের বার্তাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।