ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ‘বিজয়’ অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে আবারও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত জিতে গেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন—চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোয় কড়া হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প গণমাধ্যমকে একহাত নেন। কিছুটা অনিচ্ছা নিয়েই বলেন, “আমি এটা বলতে চাই না, কিন্তু আমরা যুদ্ধটা জিতে গেছি। যুদ্ধ আসলে শেষ—শুধু ভুয়া খবর ছড়ানো মিডিয়াই এটাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে।”

গত কয়েক সপ্তাহের সামরিক অভিযানের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “ওদের কোনো কার্যকর নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনীও নেই—প্রায় কিছুই নেই। আমাদের বিমান এখন তেহরানসহ পুরো ইরানের আকাশে নির্বিঘ্নে উড়ছে। তারা কিছুই করতে পারছে না। আমি চাইলে তাদের বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করতে পারি, ঠেকানোর মতো শক্তি তাদের নেই।”

তবে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য একেবারে স্থির নয়। গত ৯ মার্চ তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আবার বলেন, “অনেক দিক দিয়ে আমরা জিতেছি, তবে সেটাই শেষ কথা নয়।”

গত সপ্তাহান্তেও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন—ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। যদিও সোমবার সকালে তাঁর সুর কিছুটা নরম শোনা যায়। তখন তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে “গঠনমূলক আলোচনা” চলছে এবং সেই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান ইতিমধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ছাড়তে রাজি হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, আলোচনায় চাপ ধরে রাখতেই ট্রাম্প বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন—এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করার কৌশল হিসেবে।