ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর এই প্রথম সরাসরি কথা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ফোনটি করেছিলেন ট্রাম্প নিজেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়) প্রথমে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সমাজমাধ্যমে এ খবর জানান। পরে মোদীও একই তথ্য শেয়ার করেন। কথাবার্তার মূল ফোকাস ছিল পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমিটা একটু মনে করিয়ে দেওয়া যাক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল, পরে সেই সংঘাতে যোগ দেয় আমেরিকাও। তার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানে। তারপর থেকেই প্রায় টানা তিন সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা ছড়িয়ে রয়েছে পুরো পশ্চিম এশিয়ায়। যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই আসত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ থেকে। কিন্তু সংঘাত বাড়ার পর হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একসময় ইরান হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে এই পথ ব্যবহার করতে দেবে না। যদিও এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে—ভারতসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ আপাতত এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে।
এই প্রেক্ষাপটেই মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে মোদী জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ভারত চাইছে দ্রুত উত্তেজনা কমুক এবং শান্তি ফিরুক। একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালী নিরাপদ ও খোলা রাখা যে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জরুরি, সেটাও তিনি উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতেও এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, দুই নেতার আলোচনায় হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
গত কয়েক দিনে মোদী পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। ইউরোপের নেতাদের সঙ্গেও একই বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে তাঁর। সংসদের দুই কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও তিনি এ নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। পাশাপাশি, যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সাতটি বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল জোগাড়ের চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি, এবং এই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও কেন্দ্র বারবার বলেছে, দেশে আপাতত জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভবিষ্যতে চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

Social Plugin