ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ঠিক কী ধরনের প্রস্তুতি চলছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের কথা মাথায় রেখে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এমনও ধারণা করা হচ্ছে, খুব বেশি দেরি না করেই ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে।
তবে এর আগের দিনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি একেবারেই ভিন্নভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোথাও সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই, আর যদি থাকতও, তা আগেভাগে জানানো হতো না। তার এমন বক্তব্যের পরদিনই ভিন্নধর্মী এই খবর সামনে আসায় কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সম্পদ যৌথভাবে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় চলার সময়েই মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ইরানে সম্ভাব্য স্থলবাহিনী মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদার একটি তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছেন।
অবশ্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া পেন্টাগনের নিয়মিত কাজের অংশ। এর উদ্দেশ্য হলো সর্বাধিনায়কের সামনে সব ধরনের বিকল্প তুলে ধরা। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, এই মুহূর্তে কোথাও স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো অভিযানে ইরানের সেনা বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের আটক করা হয়, তাহলে তাদের কীভাবে সামলানো হবে এবং কোথায় রাখা হবে—এসব বিষয় নিয়েও আগাম আলোচনা করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিরাপদ করা বা সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও ভাবা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, এমনকি কখন এ ধরনের কিছু বাস্তবায়ন হতে পারে, সেটাও পরিষ্কার নয়।
সব মিলিয়ে পরিকল্পনায় বিশেষ বাহিনী ব্যবহারের দিকেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কোনো অভিযান বাস্তবে হলে তা অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Social Plugin