২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন সংস্থার করা ওপিনিয়ন পোল ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দিচ্ছে। গত তিনটি বিধানসভার ধারা বজায় রেখে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও বাংলার রাশ কি তৃণমূলের হাতেই থাকতে চলেছ। গবেষনা সংস্থা IANS–Matrize এর ওপিনিয়ন পোল জানাচ্ছে তৃণমূল পেতে পারে ১৫৫ থেকে ১৭০ টি আসন। অন্যদিকে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি পেতে পারে ১০০ থেকে ১১৫ টি আসন।
আর একটি সমীক্ষা সংস্থা সি ভোটারের সাম্প্রতিকতম সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন পেয়ে টানা চতুর্থবার সরকারে আসতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । উল্টোদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। বাম-কংগ্রেস বা অন্যান্য ছোট দলগুলি এই লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই চিহ্নিত।
রাজ্যের মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪৮.৫ শতাংশ মানুষ মমতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁদের প্রথম পছন্দ বলে জানিয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জনপ্রিয়তায় অনেকটাই পিছিয়ে, তাঁর পক্ষে রায় দিয়েছেন ৩৩.৪ শতাংশ মানুষ। ভোট শতাংশের হিসেবেও তৃণমূল (৪১.৯%) বিজেপির (৩৪.৯%) থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে। এমনকি ৩৬.৫ শতাংশ মানুষ বর্তমান তৃণমূল বিধায়কদের ওপরই আস্থা রাখার কথা বলেছেন।
CNN-News18 / VoteVibe সমীক্ষায় উঠে এসেছে তৃণমূল পেতে পারে ১৫৯ থেকে ১৯৪ টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১৩০ টি আসন। সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমান সমীক্ষাগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এখনও এগিয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এই অগ্রগতির একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি গত নির্বাচনের তুলনায় আরও সংগঠিত এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এসআইআরএ সংখ্যালঘুদের নির্বিচারে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এখনও তৃতীয় শক্তি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও, তাদের প্রভাব সীমিত বলেই অধিকাংশ সমীক্ষায় উঠে এসেছে। আসন ও ভোটের হিসাব বিভিন্ন সমীক্ষার গড় হিসাবে দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১৪০–১৭০টি আসন আর প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রায় ১০০–১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যান্য পেতে পারে ৫–১০টি আসন।

Social Plugin