আবার বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম, তিন মাসে দ্বিতীয় ধাক্কা; চাপে মধ্যবিত্তের সংসার

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেই হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। তার মধ্যেই ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। রবিবার থেকে ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার পিছু ২৯ টাকা দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি। ফলে কলকাতায় একটি গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াল ৯৬৮ টাকা। অন্যদিকে, ৫ কেজির সিলিন্ডার কিনতে খরচ হবে ৩৫৮ টাকা ৫০ পয়সা।

গ্যাস সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, আগে বুকিং করা থাকলেও রবিবার বা তার পরে সিলিন্ডার ডেলিভারি নিলে গ্রাহকদের নতুন বর্ধিত মূল্যই দিতে হবে। গত তিন মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হল।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সেই পরিস্থিতির জেরেই গত ৭ মার্চ ১৪.২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন কলকাতায় সিলিন্ডারের দাম হয়েছিল ৯৩৯ টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সেই দাম আরও বেড়ে পৌঁছল ৯৬৮ টাকায়।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বলা হয়েছে, “মোদির দাম বৃদ্ধির চাবুক আবার জনতার উপর নেমে এল। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা তুলে ধনী বন্ধুদের কোষাগার ভরানোই মোদি সরকারের নীতি।”

এদিকে সূত্রের খবর, গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোপুরি দাম বাড়ানো হয়নি। আংশিক মূল্যবৃদ্ধির পরেও তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলিকে লোকসান বহন করতে হচ্ছিল। শনিবার রাত পর্যন্ত প্রতিটি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০৩ টাকা করে ক্ষতির মুখে ছিল সংস্থাগুলি। সেই আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতেই নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে এখানেই স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত দেখছেন না বাজার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম যদি বর্তমান স্তরে বজায় থাকে, তাহলে তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি সামাল দিতে আগামী দিনে আরও কয়েক দফা রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরের খরচ যে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।