প্রোটেকশন’ দিতে পারেনি কমিশন, মালদহের ঘটনায় এবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মালদহে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও আটকে রাখার ঘটনা, সঙ্গে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ—সব মিলিয়ে বুধবার রাত থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ গরম। বৃহস্পতিবার বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেখানে এসআইআর–এর কাজে থাকা আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর কথায়, স্থানীয় প্রশাসন যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না।

এই ঘটনার পরই মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, এখন আর প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলার ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর অভিযোগ, সবকিছু চলছে অমিত শাহের নির্দেশে, আর নির্বাচন কমিশন কার্যত ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ চালাচ্ছে।

মালদহের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি। রাতের দিকে এক সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টা জানতে পারেন। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, ভবানীপুর ও অন্য জায়গায় সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের নাম বাদ গেছে, তাদের আইনি পথে আপিল করার পরামর্শ দেন তিনি, পাশাপাশি আইনজীবী দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

এরপর নাম না করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ও হুমায়ুন কবীরকে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাইরে থেকে লোক এনে এখানে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে, আর এর পেছনে বিজেপির পরিকল্পনা আছে বলেই তাঁর দাবি। তবে আন্দোলন করতে হলে তা শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত বলেও সতর্ক করেন তিনি। একইসঙ্গে বলেন, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়—তা হলে কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে গ্রেফতারির আশঙ্কা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের মুখ্যসচিব বা পুলিশ প্রধান এখন আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। যেহেতু প্রশাসনিক ক্ষমতা তাঁর হাত থেকে সরানো হয়েছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব এখন অন্যদের। কংগ্রেসকেও এই প্রসঙ্গে একহাত নিতে ছাড়েননি তিনি।

প্রসঙ্গত, ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই একাধিক প্রশাসনিক বদল শুরু হয়। ওই রাতেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে এই ঘটনার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, কমিশন একাধিক আধিকারিককে রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে, ফলে তাদের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। পাল্টা কমিশনের আইনজীবীর দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হয়েছে কমিশনের কর্মকর্তারাই। প্রায় একই সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও।