প্রথম ম্যাচেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ব্যাটিং ভেঙে পড়েছিল কেকেআরের। অনেকে ভেবেছিলেন, দ্বিতীয় ম্যাচে হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে দল। কিন্তু হল ঠিক উল্টোটা। ব্যাটিং তো বটেই, বোলিংয়েও ছন্দ খুঁজে পেল না কলকাতা নাইট রাইডার্স।
২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই গড়বড়। উইকেট পড়েছে নিয়মিত, কেউ দাঁড়িয়ে লড়াই গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারেই গুটিয়ে গেল পুরো দল, স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৬১। একমাত্র আংক্রিশ রঘুবংশী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন, বাকিরা যেন আসা-যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ৬৫ রানের বড় জয় তুলে নেয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
ম্যাচের পর থেকেই সমর্থকদের ক্ষোভ চোখে পড়ার মতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে তিনজন ক্রিকেটারকে ঘিরেই বেশি আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, এই তিনজনের ব্যর্থতাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
সবার আগে কাঠগড়ায় অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। ঘরের মাঠে তাঁর কাছ থেকে বাড়তি কিছু আশা ছিলই। কিন্তু বোলিং বদল থেকে ফিল্ডিং সেট করা—কোথাও যেন পরিকল্পনা পরিষ্কার ছিল না। তার ওপর নিজেও ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি, ১০ বলে ৮ রান করে ফিরেছেন। ফিল্ডিংয়েও কিছু ভুল চোখে পড়েছে।
এরপর আসছেন ক্যামেরন গ্রিন। বিপুল দামে দলে আসা এই ক্রিকেটারের কাছ থেকে অন্তত ব্যাট হাতে বড় কিছু আশা করছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁর রান আউট হওয়াটা ছিল বেশ হতাশাজনক। তাছাড়া তিনি বোলিংও করছেন না, ফলে অবদান আরও কমে যাচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচেই নজরকাড়া কিছু করতে পারেননি তিনি।
তৃতীয় নামটা বরুণ চক্রবর্তী। একসময় কেকেআরের জার্সিতেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন, বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন দলকে। এমনকি ২০২৪ সালে শিরোপা জয়ের পথেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গত মরশুমেও ভালো করেছিলেন। কিন্তু এবার যেন সেই ধার একেবারেই নেই—এই ম্যাচেও কার্যত প্রভাব ফেলতে পারেননি।
সব মিলিয়ে, কেকেআরের শুরুটা মোটেও ভালো নয়। এখন দেখার, দলটা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে কি না।

Social Plugin