উত্তর সিকিমে ভয়াবহ ভূমিধস, বিপর্যয়ের লাচেনে আটকে কয়েকশো পর্যটক

উত্তর সিকিমে আবারও প্রকৃতির রুদ্র রূপ। কয়েকদিন আগেই তুষারপাত হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভারী বৃষ্টি আর তার জেরে ভয়াবহ ভূমিধস। পরিস্থিতি এমন যে, সদ্য তৈরি একটি সেতুর অংশ ভেঙে ঝুলে আছে। লাচেন কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, আর সেখানে আটকে রয়েছেন কয়েকশো পর্যটক।

রাস্তায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি—কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আবহাওয়া এখনো ভরসা জোগাচ্ছে না। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

লাচেনের অবস্থা এখন বেশ চিন্তার। একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে, অনেক রাস্তা ভেঙে গেছে। রবিবার ভোরে তারামচু এলাকায় বড়সড় ধস নামে, তাতে অন্তত একশোর বেশি পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে পড়ে। চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন যাঁরা ওইদিকে যাচ্ছিলেন, তাঁদের দোনকিয়ালা হয়ে লাচুং ঘুরিয়ে পাঠানো হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আজ পর্যটকদের লাচেনেই নিরাপদ জায়গায় থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে তবেই বরফ সরানো আর রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা যাবে। তারপরই ধীরে ধীরে আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা।

এই পুরো কাজে একসঙ্গে নেমেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আইটিবিপি, বিআরও আর ভারতীয় সেনা। দ্রুত কাজ এগোনোর চেষ্টা চলছে। আপাতত পরিকল্পনা, লাচেন থেকে দোনকিয়ালা, তারপর লাচুং হয়ে গ্যাংটকের দিকে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা।

এদিকে, পর্যটকদের অযথা আতঙ্কিত না হতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। এখন উত্তর সিকিমের আবহাওয়া খুবই অনিশ্চিত—কখন কী হয় বলা মুশকিল। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

যাঁরা আগামী কয়েকদিনে উত্তর সিকিম যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আগে থেকে খোঁজখবর নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন সেখানে যাওয়ার সময়টা একেবারেই ভালো নয়।