চিন্নাস্বামীর মাঠে এদিন যেন একেবারে রানের ঝড় উঠল। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে নামার পর থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল আরসিবি, আর শেষে গিয়ে তারা তুলে ফেলল ২৫০ রান—এই মরশুমে যা একেবারে নতুন রেকর্ড। টিম ডেভিড, রজত পাতিদার আর দেবদত্ত পাড়িক্কলের ইনিংসেই মূলত এই বিশাল স্কোর দাঁড়ায়।
শুরুর দিকে কিন্তু ছবিটা একেবারে অন্যরকম ছিল। প্রথম তিন ওভারে একটা বাউন্ডারিও তুলতে পারেনি আরসিবি। কিন্তু তারপর যেন হঠাৎ গিয়ার বদলে গেল। চেন্নাইয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক বড় শট খেলতে শুরু করেন ব্যাটাররা, আর রান ওঠে ঝড়ের গতিতে।
এই মরশুমে এতদিনের সর্বোচ্চ দলগত রান ছিল ২২৬, যা করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সেই রেকর্ড এদিন অনায়াসেই পেরিয়ে গেল বেঙ্গালুরু।
ব্যাটিংয়ের শুরুটা মন্দ ছিল না। ফিল সল্ট ৩০ বলে ৪৬ রান করে ভিতটা গড়ে দেন। বিরাট কোহলি দ্রুত ২৮ রান করে আউট হয়ে গেলেও, এরপরই ম্যাচের আসল রং দেখা যায়। দেবদত্ত পাড়িক্কল আর রজত পাতিদার মাত্র ২১ বলেই ৫৮ রানের জুটি গড়ে তোলেন, যা ইনিংসকে একেবারে অন্য মাত্রা দেয়।
পাতিদার শেষ পর্যন্ত ১৯ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন, আর পাড়িক্কল ২৯ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন। পাড়িক্কল আউট হওয়ার পর টিম ডেভিড নামতেই গতি আরও বেড়ে যায়। পাতিদারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাত্র ৩৫ বলে ৯৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ডেভিডের ব্যাটে তখন যেন আগুন—২৫ বলে অপরাজিত ৭০ রান করে তিনি ম্যাচটা কার্যত একতরফা করে দেন।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করা চেন্নাইয়ের জন্য প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। ম্যাচ চলাকালীন অবস্থাতেই বোঝা যাচ্ছিল, তাদের সামনে পাহাড়সম চাপ। আইপিএলের ইতিহাসে চেন্নাই একবারই ২০০-র বেশি রান তাড়া করে জিতেছে—২০১২ সালে, সেটাও বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেই। কিন্তু এবার লক্ষ্য সেই তুলনায় অনেকটাই বড়।
সব মিলিয়ে, ম্যাচটা শেষ হওয়ার আগেই চেন্নাইয়ের হার প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।

Social Plugin