কেকেআরের সামনে কঠিন সমীকরণ, এখন ভরসা শুধু অলৌকিক কিছুতে

এবারের আইপিএলের ছবিটা একটু অদ্ভুতই—সব দলই কোনো না কোনো ম্যাচ জিতেছে, শুধু কলকাতা নাইট রাইডার্স ছাড়া। পাঁচটা ম্যাচ খেলে চারটাতেই হার, আর পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় কোনোমতে একটা পয়েন্ট জুটেছে। অনেকেই বলছেন, ওই ম্যাচটা পুরো হলে ফলটা হয়তো অন্যরকম হত না।

এই অবস্থায় দলটা পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলায়। এখান থেকে প্লে-অফে ওঠা সম্ভব কি? কাগজে-কলমে হিসেব মেলে, কিন্তু মাঠে সেটা করে দেখানো বেশ কঠিন। অজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বে দলকে এখন প্রায় অসম্ভব একটা পথ পার করতে হবে।

টানা হার দলের ভেতরের আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা দিয়েছে। নেট রান রেটও খুব একটা আশার কথা বলছে না। ড্রেসিংরুমে ঠিক কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। গত মরসুমের হতাশার পর এবারে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু শুরুটাই সেই আশাকে ধাক্কা দিয়েছে। সমর্থকদের হতাশাও তাই স্বাভাবিক।

তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কখন কী হয়, সেটা আগে থেকে বলা কঠিন। কলকাতার জন্যও সেটাই একমাত্র আশার জায়গা। সামনে এখনও নয়টা ম্যাচ বাকি। তার মধ্যে আটটা জিততে পারলে পরিস্থিতি ঘুরতে পারে। শুনতে যতটা সহজ লাগে, বাস্তবে তা একেবারেই নয়—বিশেষ করে দলের বর্তমান ফর্ম দেখে।

হিসেবটা খুব সোজা। নয়টার মধ্যে আটটা জিতলে পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৭-তে। সবগুলো জিততে পারলে ১৯—তাহলে প্রথম চারে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। কিন্তু সাতটা জিতলে পয়েন্ট হবে ১৫, তখন আর সব কিছু নিজেদের হাতে থাকবে না, নেট রান রেট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।

আর যদি ছয়টা ম্যাচেই থামে, তাহলে পয়েন্ট হবে ১৩। সেখান থেকে প্লে-অফে ওঠা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। যদিও অতীতে ১৪ পয়েন্ট নিয়েও দল শেষ চারে উঠেছে, কিন্তু সেই ভরসায় বসে থাকলে চলবে না। কলকাতাকে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে, যাতে নেট রান রেটও দ্রুত বাড়ে।

সব মিলিয়ে, আশা এখনও পুরো নিভে যায়নি। তবে সেই আলোটা খুব ক্ষীণ—এখন টানা ভালো পারফরম্যান্স ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই।