আমেদাবাদে শুক্রবারের ম্যাচটা কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে সব দলই জয়ের মুখ দেখেছে, শুধু ব্যতিক্রম কেকেআর। পাঁচ ম্যাচে চার হার, আর একটিতে বৃষ্টির জন্য ভাগ্যক্রমে পাওয়া এক পয়েন্ট—এই নিয়ে চলছে তাদের হিসেব। এই অবস্থায় প্লে-অফের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে আর ভুলের জায়গা নেই।
গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে জিততে পারলে আশা একটু হলেও বেঁচে থাকবে। হারলে? তাহলে কার্যত এখানেই গল্প শেষ। সমর্থকদের জন্য সেটা বড় ধাক্কাই হবে।
এতটা খারাপ শুরু কেকেআরের ইতিহাসে খুব একটা দেখা যায় না। তবে এমন পরিস্থিতিতে দল ঘুরে দাঁড়াতেও পারে—প্রশ্ন হলো, সেই তাগিদটা খেলোয়াড়দের মধ্যে কতটা আছে। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে আর দলের বাকি সদস্যরা সেটা দেখাতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।
এখন পর্যন্ত ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—কোনও দিকেই তেমন ভরসা জাগাতে পারেনি নাইটরা। ফিন অ্যালেন একেবারেই ছন্দে নেই, তবুও তাকে দলে রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিকল্প হিসেবে টিম সেইফার্ট বা রাচীন রবীন্দ্রের নাম ভাবা হচ্ছে। ওপেনিং জুটিতেও বদল দরকার—কারণ শুরুতেই রান না উঠলে পরে চাপ বাড়ছে।
সুনীল নারিনও গত ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে যতটা সম্ভব রান তোলা জরুরি, আর সেখানেই পিছিয়ে পড়ছে কেকেআর। ফলে রাহানে বা রঘুবংশীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে মাঝের দিকে। রিঙ্কু সিং, ক্যামেরন গ্রিন, রভম্যান পাওয়েল—এদের কেউই এখনও নিজেদের সেরাটা দিতে পারেননি।
বোলিং লাইনআপও খুব একটা ধারালো নয়। বৈভব অরোরা আর কার্তিক ত্যাগীদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ধারাবাহিকতা নেই। গ্রিনও বল হাতে সুবিধা করতে পারছেন না। তাই নারিন আর বরুণ চক্রবর্তীকেই বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।
অন্যদিকে গুজরাত নিজেদের মাঠে নামছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। শুভমান গিল দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, সাই সুদর্শনের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে নিয়মিত বড় রান তুলছেন। শুরুতেই এই জুটিকে ভাঙা কেকেআরের জন্য খুব জরুরি।
তার উপর জস বাটলারও ছন্দে ফিরেছেন। মাঝের দিকে ওয়াশিংটন সুন্দর, তেওয়াটিয়া আর গ্লেন ফিলিপসের মতো ব্যাটার আছে, যারা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। বোলিংয়েও গুজরাত বেশ শক্তিশালী—প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডার মতো পেসার যেমন আছেন, তেমনই স্পিনে আছেন রশিদ খান।
সব মিলিয়ে, কাগজে-কলমে গুজরাত এগিয়ে থাকলেও কেকেআরের সামনে এখন একটাই রাস্তা—যেভাবেই হোক জিততে হবে। না হলে এবারের আইপিএলটা তাদের জন্য খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে যাবে।

Social Plugin