নাইটদের টানা হার, চাপের মুখে নায়ার, ম্যাকালাম জল্পনায় ঘনাচ্ছে মেঘ

কলকাতা নাইট রাইডার্সের গল্পটা এখন বেশ হতাশার। গতবার কোনোমতে পয়েন্ট তালিকার আট নম্বরে শেষ করেছিল, আর এ বছর যেন সেই অবস্থাও ছাড়িয়ে গেছে। মাঠের খেলায় আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না।

চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতকে সরিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় অভিষেক নায়ারের হাতে দল তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন অনেকেই বলছেন, সেই ভরসা ঠিক জায়গায় পড়েনি। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ হার, তালিকার একেবারে নীচে দল। তাই প্রশ্নটা ঘুরেফিরে আসছেই, নায়ারের চেয়ার কি টিকবে?

হার যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে বৃষ্টি এসে বাঁচিয়েছে, না হলে সেটাও হয়তো হারেই গড়াত। সব মিলিয়ে টানা ছ’টা ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি শাহরুখ খানের দল। ফলে চাপটা শুধু অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের উপরই নয়, কোচের দিকেও সমানভাবে যাচ্ছে।

শুক্রবার গুজরাতের কাছে হারার পর একটা দৃশ্য অনেকের চোখে পড়েছে। ম্যাচ শেষ হতেই মাঠে দাঁড়িয়ে রাহানের সঙ্গে কথা বলছিলেন নায়ার, মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। তাতে বোঝা যাচ্ছিল, দল যে পথে এগোচ্ছে তা নিয়ে তিনি নিজেও স্বস্তিতে নেই।

এর মধ্যেই প্রাক্তন ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছেন। খেলা চলাকালীন তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আগামী মরশুমে নাকি ব্রেন্ডন ম্যাকালামই কলকাতার কোচ হতে চলেছেন। এমনকি কথাটা মনে রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই মন্তব্যের পর থেকেই গুঞ্জন আরও বেড়েছে। অনেকের ধারণা, পরিস্থিতি যদি না বদলায়, তা হলে চলতি প্রতিযোগিতার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে দল পরিচালনা। কারণ একই ভুল আর হারের ধারা কতদিন টানা যায়, সেটা নিয়েই প্রশ্ন।

ম্যাকালামের সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক নতুন নয়। শুরুর দিকেই তিনি এই দলের হয়ে খেলেছেন, পরে আবার ফিরেছেন। খেলোয়াড় হিসেবে যেমন অবদান রেখেছেন, কোচ হিসেবেও দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০২০-২১ মরশুমে তাঁর কোচিংয়েই দল ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও ট্রফি জেতা হয়নি। এখন অবশ্য তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের দায়িত্বে, এবং সেই চুক্তিও বেশ কয়েক বছর ধরে রয়েছে।

শুক্রবারের ম্যাচের কথায় ফিরলে, আহমেদাবাদে গুজরাতের কাছে আরেকটা হার জুটেছে কলকাতার ঝুলিতে। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাত খুব বেশি চাপ নেয়নি। অধিনায়ক শুভমান গিলের ৫০ বলে ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ১৯.৪ ওভারেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।

এর আগে কলকাতার হয়ে ক্যামেরন গ্রিন লড়াইটা টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। ৫৫ বলে ৭৯ রান করে দলকে ১৮০ পর্যন্ত তুলেছিলেন তিনি। শুরুটা কিন্তু একেবারেই ভালো ছিল না। কাগিসো রাবাদা আর মোহাম্মদ সিরাজের গতির সামনে টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে, ৩২ রানেই তিন উইকেট চলে যায়।

সেখান থেকেই ইনিংসটা গুছিয়ে নেন গ্রিন। রোভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে ভালো জুটি গড়েন, পরে অনুকূল রায়কেও পাশে পান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। আর তাতেই চাপটা আরও বেড়ে গেল নাইট শিবিরে। এখন দেখার, এখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।