হরমুজ প্রণালিতে দুটি ভারতীয় জাহাজে গুলি, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব

হরমুজ প্রণালীর কাছে ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে শনিবার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী আগেই জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল এমন কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরানি বাহিনীর গুলিতে অন্তত দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরেই নয়াদিল্লি কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।

সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার দিকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাতহালিকে বিদেশ মন্ত্রকে ডাকা হয়। সেখানে তিনি পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক যুগ্ম সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিদেশ সচিব সরাসরি ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে ভারতগামী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতে ইরান সহযোগিতা করেছিল—সেই প্রেক্ষাপটও আলোচনায় উঠে আসে।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে নয়াদিল্লি।

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি তাঁদের সরকারকে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, জানা গেছে, ইরাক থেকে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসছিল দুটি বড় ভারতীয় ট্যাঙ্কার—‘জগ অর্ণব’ এবং ‘সানমার হেরাল্ড’। ওমানের উত্তরে এই জাহাজ দুটির ওপরই গুলি চালানো হয়। তার কিছুক্ষণ আগেই নাকি তাদের হরমুজ প্রণালী থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। নৌবাহিনীও বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই এলাকায় বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই। তবে ওমান উপসাগরে ভারতের দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট এবং একটি ট্যাঙ্কার মোতায়েন রয়েছে।