ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামের ছবি এবার একটু অন্যরকম। গ্যালারিতে সেই চেনা উন্মাদনা নেই, টিকিট কাউন্টারও প্রায় ফাঁকা। ফুটবলপাগল এই শহরে এমন দৃশ্য বিরল। নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের খারাপ ফর্মই বোধহয় সমর্থকদের উৎসাহ কমিয়ে দিয়েছে।
আট ম্যাচে মাত্র সাত পয়েন্ট—পেড্রো বেনালির দলের অবস্থা বেশ নড়বড়ে। তার ওপর বড় ধাক্কা, চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন দলের ভরসা জিতিন এম এস। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।
অন্যদিকে এই ম্যাচটা মোহন বাগানের জন্য দারুণ সুযোগ। মুম্বই সিটি এফসির হোঁচট খাওয়ায় হিসেবটা সহজ—জিতলে তো বটেই, ড্র করলেও লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে সবুজ-মেরুন। বর্তমানে আট ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৭। কোচ হোসে লোবেরা অবশ্য সতর্ক, “ঘরের মাঠে নর্থ ইস্ট কঠিন প্রতিপক্ষ,” বলেই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
শনিবার কলকাতায় শেষ প্রস্তুতি সেরে দল রওনা দেয়। আলবার্তোকে পাওয়া যাবে না, সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তবু বিকল্পের অভাব নেই লোবেরার দলে। ফ্লাইট দেরিতে পৌঁছনোর কারণে সন্ধ্যায় গুয়াহাটিতে পৌঁছয় দল।
দলের গঠন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রাখছেন কোচ। তবে অনুশীলনে একটা ইঙ্গিত মিলেছে—প্রেসিং ফুটবলেই জোর দিতে চান তিনি। আক্রমণভাগে লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং আর জেসন কামিংসদের নিয়ে শক্তিশালী লাইনআপ। এই ত্রয়ী যেকোনো রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে পারে। তবে মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি ঠিক রাখবেন কে, সেটা এখনও প্রশ্ন।
পাঞ্জাব ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে নেমে সাহাল আবদুল সামাদ খেলার মোড় ঘুরিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করছেন, ওঁকে আরও বেশি সময় দেওয়া উচিত। আবার পরিস্থিতি বুঝে চার বিদেশি নিয়ে আক্রমণ সাজানোর কথাও ভাবছে দল। শুরুতেই গোল পেলে ম্যাচ অনেক সহজ হয়ে যাবে—এই ভাবনাই এখন শিবিরে।
নর্থ ইস্টের জন্য ছবিটা একটু আলাদা। ডুরান্ড কাপ জিতলেও আইএসএলের আগে দল ছেড়েছেন আলেদাইন আজারে, যিনি গতবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। মাঝমাঠেও ভাঙন স্পষ্ট। কোচ বেনালিও সেটা বুঝতে পারছেন। তবু তরুণদের ওপর ভরসা রেখেই লড়াই চালিয়ে যেতে চাইছেন তিনি।
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। সম্প্রচার দেখা যাবে ফ্যানকোড এবং সনি স্পোর্টসে।

Social Plugin