ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে যা দেখা গেল, তাতে এক কথায় বলা যায়—ম্যাচটা পাঞ্জাব কিংস প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হাত থেকে। বড় লক্ষ্য, শুরুতে একটু টালমাটাল অবস্থা—এসব কিছুই শেষ পর্যন্ত থামাতে পারেনি তাদের।
১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব খুব একটা মসৃণ শুরু পায়নি। তবে একবার প্রভসিমরান সিং আর শ্রেয়স আইয়ার জুটি বাঁধার পর খেলার ছবি বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। দু’জন মিলে এমনভাবে ম্যাচটা ধরলেন, যেন চাপ বলে কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারেই ৩ উইকেটে ১৯৮ তুলে ফেলে তারা, হাতে তখনও ২১ বল বাকি। জয়টা তাই একেবারেই দাপুটে—৭ উইকেটে।
এই জয়ের ফলেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে পাঞ্জাব। আর মুম্বাই? তারা এখনও নিচের দিকেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
ম্যাচের আসল গল্পটা ওই তৃতীয় উইকেট জুটিতেই। প্রভসিমরান আর আইয়ার মিলে ১৩৯ রান যোগ করেন, আর সেখানেই ম্যাচটা কার্যত বেরিয়ে যায় মুম্বাইয়ের হাত থেকে। প্রভসিমরান ৩৯ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন—শুরু থেকেই বেশ খোলামেলা ব্যাটিং, ঢিলেঢালা বল পেলেই বাউন্ডারি। অন্যদিকে আইয়ার শুরুতে একটু দেখে শুনে খেললেও পরে গিয়ার বদলে ফেলেন, ৩৫ বলে করেন ৬৬।
এর আগে অবশ্য পাঞ্জাব কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। প্রিয়াংশ আর্য আর কুপার কনোলি মিলে ৪৫ রান তুললেও, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’জনেই ফিরে যান। তখনই মনে হচ্ছিল মুম্বাই হয়তো ম্যাচে ফিরতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
মুম্বাইয়ের ফিল্ডিংও তাদের পক্ষে গেল না। তিনটি সহজ ক্যাচ পড়ে যায়, আর সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় শেষ পর্যন্ত। জসপ্রীত বুমরাহর দিনটাও ভালো যায়নি—উইকেট পাননি, উপরন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচও হাতছাড়া করেন।
তার আগে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই মোটামুটি লড়াইয়ের মতো স্কোরই দাঁড় করিয়েছিল—৬ উইকেটে ১৯৫। কুইন্টন ডি কক একাই প্রায় ইনিংসটা টেনে নিয়ে যান, ৬০ বলে করেন ১১২ রানে অপরাজিত। এটাই ছিল তার এই মরসুমের প্রথম শতরান। তাকে ভালো সঙ্গ দেন নমন ধীর, দ্রুত ৫০ রান তুলে।
তবে মুম্বাইয়ের শুরুটা ছিল একেবারেই খারাপ। আরশদীপ সিং শুরুতেই রিকেলটন আর সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে দেন, স্কোর তখন ২ উইকেটে মাত্র ১২। সেখান থেকে ডি কক ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন—প্রথমে সামলে, পরে আক্রমণে।
মাঝে ধীরকে নিয়ে ভালো জুটি গড়ে তোলেন তিনি। ধীর একবার সুযোগ পেয়েই আর পেছনে তাকাননি, দ্রুত রান তুলে দলের স্কোর বাড়ান। সেই সময় মনে হচ্ছিল, মুম্বাই হয়তো ২০০ ছুঁয়ে ফেলবে।
ডি কক ৫৩ বলেই শতরান পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। তবে শেষের দিকে পাঞ্জাব কিছুটা চাপে ফেলে। বিশেষ করে শ্রেয়স আইয়ারের দুর্দান্ত এক ক্যাচে হার্দিক পান্ডিয়া আউট হওয়াটা ছিল বড় মুহূর্ত।
সব মিলিয়ে, মুম্বাই লড়াই করেছিল ঠিকই, কিন্তু ১৯৫ রান শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হলো না। পাঞ্জাবের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে সেই রান খুব বেশি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেনি।

Social Plugin