আগের পর্যবেক্ষণেই আভাস মিলেছিল, এবার তা পাকাপাকি রূপ পেল আদালতের নির্দেশে। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাঁদের একটা সুযোগ দেওয়া হবে—এবারের ভোটেই।
১৩ এপ্রিলের শুনানির বিস্তারিত লিখিত নির্দেশ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। সেখানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে বলেছেন, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা এই বিধানসভা নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, তাই ওই পর্যায়ে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের আবেদন মঞ্জুর হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে পরের দফার জন্য ২৯ এপ্রিলের ভোটে ২৭ তারিখ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনকারীরাও সুযোগ পাবেন।
সাধারণ নিয়মে মনোনয়ন জমা পড়ার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এত বিতর্ক, এত অভিযোগ জমেছিল যে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত বলেছে, ট্রাইবুনাল থেকে যাঁরা ছাড়পত্র পাবেন, তাঁদের নাম ‘অতিরিক্ত তালিকা’ হিসেবে প্রকাশ করে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ আদালতকে এমন ক্ষমতা দেয়, যাতে বিচারাধীন কোনও মামলায় সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যে কোনও নির্দেশ দেওয়া যায়। এই নির্দেশের ফলে, তালিকা একবার ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার পরও নতুন করে কিছু ভোটার অংশ নিতে পারবেন—এটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে যাঁরা ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পাবেন না, বা যাঁদের আবেদন সময়মতো নিষ্পত্তি হবে না, তাঁদের জন্য দরজা খোলা থাকছে না।
এই খবরে স্বভাবতই খুশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে তিনি বলেন, আজকের দিনে তাঁর চেয়ে খুশি কেউ নেই। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেই তিনি লড়াই করেছিলেন, আর সেই লড়াইয়ের ফল মিলেছে বলেই মনে করছেন তিনি। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ট্রাইবুনালে গিয়ে আবেদন করার কথাও আবার মনে করিয়ে দেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য, ১৩ এপ্রিলের শুনানিতে তাঁর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ানই এই দাবি তুলেছিলেন—ভোটের আগে পর্যন্ত যাঁরা ট্রাইবুনাল থেকে ছাড়পত্র পাবেন, তাঁদের এবারই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। আদালত শেষ পর্যন্ত সেই দাবিকেই মান্যতা দিল।
১১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনালে প্রায় ৩৪ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে যেমন বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন আছে, তেমনই সংশোধিত তালিকা থেকে কিছু নাম বাদ দেওয়ার দাবিও রয়েছে। তবে সেই নাম বাদ দেওয়ার আবেদন যদি সময়মতো নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভোট দিতে পারবেন—এটাই স্পষ্ট করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শেষ কথা বলবে ট্রাইবুনালের বিচারকের সিদ্ধান্তই।
অন্যদিকে, ভোটের সময় রাজ্যের বিভিন্ন অফিসারদের বদলি নিয়ে যে মামলা হয়েছিল, সে বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় এ ধরনের বদলি অস্বাভাবিক কিছু নয়, আর যাঁরা কাজ করছেন, সবাই তো রাজ্যেরই অফিসার—তাহলে আপত্তির কারণ কী?

Social Plugin