বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে মুম্বইকে দাপটে হারাল রাজস্থান

বৃষ্টির চোখরাঙানি ছিলই, তবু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জমে গেল। বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে ওভার কমে দাঁড়াল ১১-তে, আর সেই ছোট ম্যাচেই বাজিমাত করল রাজস্থান রয়্যালস। টস হেরে আগে ব্যাট করে তারা ৩ উইকেটে তোলে ১৫০ রান—এই ফরম্যাটে যা কার্যত লড়াইয়ের বাইরে ঠেলে দেওয়ার মতো স্কোর।

শুরু থেকেই তেড়ে খেলেন যশস্বী জয়সওয়াল। মাত্র ৩২ বলে অপরাজিত ৭৭, তাতে ছিল চার-ছয়ের ঝড়। অন্যদিকে, সবাইকে চমকে দিয়ে ছোট্ট ইনিংস খেলেও নজর কাড়ে বৈভব সূর্যবংশী—১৪ বলে ৩৯ রান। দু’জনের ব্যাটেই ম্যাচটা একরকম একপেশে হয়ে যায়।

জবাবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। ২২ রানের মধ্যেই ফিরে যান রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব আর রায়ান রিকেলটন। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানো যায়নি। মাঝের দিকে নমন ধীর আর শেরফানে রাদারফোর্ড কিছুটা চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১২৩-তেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। রাজস্থান জেতে ২৭ রানে। এই জয়ে তিন ম্যাচে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াল ৬, আর মুম্বই একই সংখ্যক ম্যাচে আটকে রইল ২ পয়েন্টে।

তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ঘুরছে বৈভবকে নিয়েই। বয়স এখনও ২০ হয়নি, সামনে অন্তত আরও কয়েকটা মরসুম আছে। এই বয়সে যে হারে ছক্কা মারছে, তাতে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাই বেশি। ইতিমধ্যেই আইপিএলে সবচেয়ে কম বলের ব্যবধানে ছক্কা মারার তালিকায় উপরে উঠে এসেছে সে। আগে এই তালিকায় ছিলেন রোমারিও শেফার্ড, এরপর উর্ভিল পটেল, জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক আর আন্দ্রে রাসেল। আরেকটা দিক থেকেও এগিয়ে বৈভব। ১৮ বছরের নিচে থেকে প্রথম সারির টি-টোয়েন্টি লিগে সবচেয়ে বেশি রান করার তালিকাতেও সে এখন শীর্ষে। ১৫ বছর বয়সেই তার রান ৩৩৫। এরপর আছে আয়ুষ মাত্রে আর রিয়ান পরাগ। সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ শুধু একটা জয় নয়—নতুন এক তারকার আগমনের ইঙ্গিতও দিয়ে গেল।

ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিল যশপ্রীত বুমরাহ বনাম বৈভব সূর্যবংশীর লড়াই। কিন্তু মাঠে নেমে ১৫ বছরের ছেলেটাই যেন আলাদা গল্প লিখল। বুমরাহর প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানো—সেখান থেকেই আত্মবিশ্বাসটা বোঝা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওর ইনিংস দেখে অনেকেই মুগ্ধ।

যশস্বীও কম যাননি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই দীপক চাহার-এর থেকে ২২ রান তুলে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন। মাত্র ২৩ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। সব মিলিয়ে দায়িত্ব নিয়ে দলকে দেড়শোর গণ্ডি পার করান।