বুধবার ভারতীয় মান সময় রাত ১২:৩০ মিনিটে ম্যাচ শুরু হবে। (সনি টেন-১, সনি টেন-২, টেন-৩, এছাড়া ESPN)
প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর বার্সেলোনার সামনে এখন কাজটা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। সেমিফাইনালে যেতে হলে যে ঘাটতি পুষিয়ে নিতে হবে, সেটা সহজ কিছু নয়—এটা এখন সবাইই বুঝতে পারছে।
ঘরের মাঠে, প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের সামনে খেলাটা বার্সেলোনার জন্য বড় একটা সুবিধা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ম্যাচটাই উল্টো চাপে ফেলে দিল তাদের। ক্যাম্প ন্যুতেই ২-০ গোলে হেরে বসে তারা—যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত।
খেলার দিক দিয়ে অবশ্য বার্সেলোনাই এগিয়ে ছিল। বল দখল, আক্রমণ—সবই ছিল, কিন্তু গোলটাই আসেনি। প্রথমার্ধের শেষদিকে পাউ কুবাসি একটা ভুল করে বসে, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর বেশি সময় লাগেনি—জুলিয়ান আলভারেজ ফ্রি-কিক থেকে গোল করে এগিয়ে দেন অ্যাটলেটিকোকে। পরে দ্বিতীয়ার্ধে আলেকজান্ডার সোরলথ আরেকটা গোল করে ম্যাচটা প্রায় নিশ্চিত করে দেন।
এই হারের পর এখন বার্সেলোনাকে যেতে হবে অ্যাটলেটিকোর মাঠে, ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানোতে। সেখানে অন্তত তিন গোল করতে হবে তাদের—শুনতেই বোঝা যাচ্ছে কাজটা কতটা কঠিন। তার ওপর অ্যাটলেটিকো এমন একটা দল, যারা সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আঘাত করে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে সবকিছুই সম্ভব—এ কথা ঠিক। কিন্তু দিয়েগো সিমিওনের মতো কোচ জানেন কীভাবে লিড ধরে রাখতে হয়। তার দল বরাবরই রক্ষণে শক্ত, অনেক সময় এমনভাবে খেলেছে যে প্রতিপক্ষের জন্য গোলের সামনে জায়গাই থাকে না। অনেকেই মজা করে একে ‘বাস পার্কিং’ বলে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা একটু খোলামেলা খেলছে, আক্রমণেও যাচ্ছে বেশি। তবে এই স্টাইল সবসময় সুবিধা দেয় না, উল্টো ঝুঁকিও তৈরি করে।
বার্সেলোনার শক্তি তাদের খেলার নিয়ন্ত্রণে। মাঝমাঠে পেদ্রি আর ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং থাকায় তারা বল ধরে রেখে খেলা চালাতে পারে দারুণভাবে। সামনে রবার্ট লেভানদোভস্কি আগের মতো ধারালো না হলেও এখনও গোল করার ক্ষমতা আছে। তার পাশে লামিন ইয়ামাল দ্রুত বড় হয়ে উঠছে, ম্যাচে তার প্রভাবও বাড়ছে।
তবে সমস্যা কম না। রাফিনহা এখনও পুরো ফিট না, যা আক্রমণে একটা ঘাটতি তৈরি করছে। রক্ষণেও ধাক্কা—ক্রিস্টেনসেন চোটে বাইরে, আর কুবাসি নিষেধাজ্ঞায় নেই। এই অবস্থায় অ্যাটলেটিকোর পাল্টা আক্রমণ সামলানো সহজ হবে না।
অ্যাটলেটিকোর অবস্থাও একেবারে নির্ভার না। তাদের গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকসহ কয়েকজন ডিফেন্ডার চোটে ভুগছেন। বার্সেলোনার মতো আক্রমণাত্মক দলের বিপক্ষে এটা তাদের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, লিভারপুলের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। পিএসজির কাছে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারার পর তাদেরও এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।
এই মৌসুমটা লিভারপুলের জন্য মোটামুটি হতাশারই। ঘরোয়া কাপ থেকে তারা আগেই ছিটকে গেছে, আর লিগ শিরোপাও এখন অনেক দূরের ব্যাপার। টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের পারফরম্যান্সও আশানুরূপ হয়নি। পিএসজির বিপক্ষে প্রথম লেগে তারা কার্যত কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। আক্রমণে ধার ছিল না, আবার রক্ষণেও ছিল গড়পড়তা মানের নিচে। ম্যাচের পর কোচ আর্নে স্লট নিজেই স্বীকার করেছেন, আরও বেশি গোল না খাওয়াটা তাদের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার ছিল।
স্লটের জন্য সময়টা সহজ যাচ্ছে না। বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে দল গড়া হয়েছিল—ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, আলেকজান্ডার ইসাকদের মতো তারকা আনা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও সেরা একাদশটা ঠিকমতো দাঁড় করাতে পারেননি তিনি। অনেক সময় মনে হয়েছে, খেলোয়াড়রাই যেন একে অপরের জায়গা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাচ্ছে।
পিএসজি অবশ্য অন্য ছন্দে আছে। নিজেদের লিগে তারা এগিয়ে, আর ইউরোপেও ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পেয়েছে। শেষ ষোলোতে চেলসিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।
লিভারপুলের বিপক্ষে প্রথম লেগে তারা পুরোপুরি ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে—বল দখল থেকে শুরু করে আক্রমণ, সবখানেই এগিয়ে ছিল। লিভারপুলকে একটাও লক্ষ্যে শট নিতে দেয়নি, যা অনেক কিছুই বলে দেয়।
তবে এখন তাদের যেতে হবে অ্যানফিল্ডে। আর লিভারপুল এমন একটা দল, যারা ঘরের মাঠে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই ২-০ লিড নিয়েও পিএসজির নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই।
তার ওপর দুই দলই কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না চোটের কারণে। লিভারপুলের বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড় অনুপস্থিত, পিএসজিরও একই অবস্থা। সব মিলিয়ে ফিরতি লেগগুলো আরও অনিশ্চিত, আর সেখানেই হয়তো ঠিক হবে কারা শেষ চারে যাবে।

Social Plugin