মেসির চোখে জল, বিদায়ের ইঙ্গিত, দেশের জার্সিতে আর দেখা যাবে তাঁকে?

স্টেডিয়ামের আলো তখনও পুরো নেভেনি, কিন্তু পরিবেশে যেন এক অদ্ভুত আবেগ জমে উঠেছে। লিয়োনেল মেসি মাঠে দাঁড়িয়ে, চোখ ভিজে উঠেছে তাঁর। গ্যালারিতেও একই ছবি—হাজার হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক যেন বুঝতে পারছেন, একটা অধ্যায় হয়তো শেষের দিকে।

দেশের মাটিতে শেষ প্রীতি ম্যাচটা খেলে ফেললেন মেসি। এরপর? জাতীয় দলে আর দেখা যাবে তো? প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই ঘুরছে সবার মনে। যদিও এ নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি নিজে, কিন্তু কোচ লিয়োনেল স্কালোনি আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন।

জ়াম্বিয়ার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছে ৫-০ গোলে। মেসি শুধু গোলই করেননি, অন্যদের দিয়েও করিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১১৬—সংখ্যাটা নিজেই অনেক কিছু বলে দেয়।

খেলার সময় মেসিকে স্বাভাবিকই লাগছিল, কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পর ছবিটা বদলে যায়। আবেগ আর আটকে রাখতে পারেননি তিনি। গ্যালারি থেকে তখন একটাই আওয়াজ—আরও একবার বিশ্বকাপ খেলুন, দেশকে আবার জেতান।

স্কালোনি অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “লিয়ো নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই ঠিক করবে, কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমরা ওকে আরও একটা বিশ্বকাপে দেখব।” তাঁর বিশ্বাস, মেসি এখনও খেলাটা উপভোগ করছেন—এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

আরেকটা মজার কথাও বলেছেন স্কালোনি। তাঁর ধারণা, আর এক বছর খেললে মেসি হাজার গোলের মাইলফলকেও পৌঁছে যেতে পারেন। কিছুদিন আগেই ৯০০ পেরিয়েছেন। কোচের মতে, “ওর পক্ষে বছরে ৯০ গোল অসম্ভব কিছু নয়।”

এদিকে অন্য প্রান্তে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিয়েও চলছে জল্পনা। চোটের কারণে পর্তুগালের সাম্প্রতিক দুই প্রীতি ম্যাচে নেই তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপে তাঁকে দেখা যাবে তো?

এই নিয়েই কথা বলেছেন কোচ রবের্তো মার্তিনেস। তাঁর বক্তব্য পরিষ্কার—রোনাল্ডো এখনও দলের নেতা। “ও আমাদের অধিনায়ক, বাকিদের কাছে অনুপ্রেরণা,” বলেছেন মার্তিনেস। ৪১ বছর বয়সেও রোনাল্ডোর গোলের খিদে কমেনি—শেষ ৩০ ম্যাচে ২৫ গোল তারই প্রমাণ।

চোটটা গুরুতর নয় বলেই জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই অনুশীলনে ফিরবেন তিনি। মার্তিনেসের কথায়, “বিশ্বকাপে ও খেলবেই।”

রোনাল্ডোর অবসর নিয়ে এখনই ভাবতে রাজি নন কোচ। তাঁর নজর একটাই জায়গায়—আসন্ন বিশ্বকাপ। “বর্তমানটাই গুরুত্বপূর্ণ,” বলছেন তিনি, “লক্ষ্য একটাই—ট্রফি জেতা।”