কলকাতায় দাম বাড়ল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের ২১৮ টাকা বৃদ্ধি প্রতি সিলিন্ডারে,

১ এপ্রিল, বুধবার থেকে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে। প্রতি সিলিন্ডারে একেবারে ২১৮ টাকা করে বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি বলেই ধরা হচ্ছে। এখন ১৯ কেজির একটি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে খরচ পড়ছে ২,২০৮ টাকা।

এই দাম বাড়া একদিনের ঘটনা নয়। গত কয়েক মাস ধরেই ধীরে ধীরে বাড়ছিল গ্যাসের দাম। মার্চের শুরুতে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছিল ১,৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা—সেখানে বৃদ্ধি ছিল ৩১ টাকা। তখন যদিও ঘরোয়া গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত ছিল, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেটাও বাড়ে। ১৪.২ কেজির ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩৯ টাকায়।

তেল সংস্থাগুলোর দাবি, এই দাম নির্ধারণের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবই সবচেয়ে বড়। অপরিশোধিত তেলের দাম, জ্বালানির বিশ্ব বাজারের ওঠানামা এবং মুদ্রার বিনিময় হার—সব মিলিয়েই প্রতি মাসে নতুন করে দাম ঠিক করা হয়।

গত বছরের শেষ দিকেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। অক্টোবর মাসে দাম বেড়েছিল প্রায় ১৫ টাকা ৫০ পয়সা। নভেম্বরে সামান্য কমলেও তাতে বিশেষ স্বস্তি মেলেনি—মাত্র ৫ টাকা কমানো হয়েছিল। ডিসেম্বরেও কিছু জায়গায় অল্প কমেছিল দাম। কিন্তু নতুন বছর শুরু হতেই আবার দাম বাড়ার ধারা শুরু হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ এক ধাক্কায় ১১১ টাকা বাড়ে, ফেব্রুয়ারিতে আরও ৪৯ টাকা। মার্চের শুরুতে ৩১ টাকা বাড়ার পর এবার মাসের শেষে এক লাফে ২১৮ টাকা বেড়ে গেল।

এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়। অনেকেই বলছেন, এই বাড়তি খরচ টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে শেষ পর্যন্ত খাবারের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরেও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দামের উপর তার প্রভাব পড়ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে, তবু বাস্তবে সেই চাপ কমার লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন বাড়ছে। ভোটের আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল। তার মধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাসের এই নতুন দামবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।