রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬— ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তানে হওয়া আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসবে কি না, তা নিয়ে তাঁর বিশেষ মাথাব্যথা নেই।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর কার্যত অবরোধের আওতায় আনবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-র সামুদ্রিক চলাচলের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চল—আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরসহ—যে কোনও দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ইরানের বন্দরে ঢোকা বা সেখান থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে কারও জন্য আলাদা সুবিধা থাকবে না। তবে তারা এটাও বলেছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যদি কোনও জাহাজ ইরানের বাইরে অন্য বন্দরে যায়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেবে না।
পোপের ওপর এক অস্বাভাবিক ও সরাসরি আক্রমণে ট্রাম্প পোপ লিওকে 'ভয়ংকর' বলে অভিহিত করেছেন। রবিবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপ লিও-র তীব্র সমালোচনা করেন; ১.৪ বিলিয়ন অনুসারী-বিশিষ্ট ক্যাথলিক চার্চের এই নেতার ওপর চালানো তার এই অস্বাভাবিক ও সরাসরি আক্রমণটি বিশ্বাসীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক নিন্দার মুখে পড়ে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধপ্রচেষ্টা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিষয়ে পোপের ক্রমবর্ধমান সমালোচনার আপাত জবাবেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পোপ লিওকে "ভয়ংকর" বলে মন্তব্য করেন। "অপরাধ দমনে পোপ লিও অত্যন্ত দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি এক কথায় ভয়ংকর," 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে মি. ট্রাম্প এমনটি লিখেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যাথলিকরা দ্রুতই মি. ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা তাদের চার্চের এই নেতার ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান; ক্যাথলিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী, পোপ হলেন যিশুর ১২ জন প্রেরিতের অন্যতম—সেন্ট পিটারেরই উত্তরসূরি।
অন্যদিকে, ইরান-এর পার্লামেন্টের স্পিকার—যিনি পাকিস্তানে হওয়া আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন—জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে চাপ বা হুমকি এলেও তারা পিছু হটবে না।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকেই এই অবরোধ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। রবিবার সন্ধ্যায় তারা আবারও পরিষ্কার করে বলেছে, নিয়ম সবার জন্য এক—ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় ঢোকা-বেরোনো মানেই বাধার মুখে পড়তে হবে। ওমান উপসাগরের লাগোয়া বন্দরগুলিও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে নয়।
এর আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি যেমন ছিল, তেমনই রয়ে গেছে। বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। যদিও সেন্টকমের ঘোষণায় সেই অবস্থান কিছুটা নরম বলে মনে হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব দ্রুতই পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডও প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
উল্লেখ করার মতো বিষয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে সংঘাতের পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তার জেরেই এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহে।
যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত মাত্র চল্লিশটির মতো বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ পেরিয়েছে—যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।

Social Plugin