যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই দলে আছেন তেহরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এগোতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্যে কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিতই স্পষ্ট।
ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি সরাসরি তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টকেই পাঠিয়েছেন, যেটা সাধারণত তখনই করা হয় যখন কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত করার ইচ্ছে থাকে। ভ্যান্সের সঙ্গে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ থাকবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে, তবে নেতৃত্বে ভ্যান্স থাকাটাই আলাদা করে চোখে পড়ে।
তেহরান থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রতিনিধিদলের বিমানে ছিল এক ভিন্ন ধরনের ভার। সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল কিছু ছবি—ইরানের সেই স্কুলশিক্ষার্থীদের, যারা যুদ্ধের শুরুর দিকেই প্রাণ হারিয়েছিল। ছিল তাদের ব্যবহার করা ছোটখাটো জিনিসপত্রও, যেন স্মৃতি আর শোক দুটোই একসঙ্গে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওই আঘাতে অন্তত ১৬৮ জন নিহত হন। তাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু—যাদের জীবন শুরুই হয়েছিল, শেষ হওয়ার জন্য নয়।
এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে খুব একটা জনপ্রিয় নয়—এমনটাই বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। খুব অল্প সংখ্যক মানুষ এর পক্ষে আছেন। তাই ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটা সমাধানের পথ খুঁজছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে পাঠানোর পেছনে কয়েকটি স্পষ্ট লক্ষ্য আছে—একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত রাখা। তবে এর বাইরেও একটা বড় রাজনৈতিক হিসাব আছে: এই সংঘাতের ইতি টেনে সেটিকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা।
ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বয়স ৬৪। তেহরানের সাবেক মেয়র, তার আগে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পটভূমি একদিকে সামরিক, অন্যদিকে প্রশাসনিক—দুটোরই মিশ্রণ।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইরানের বাইরেও আলোচনায় এসেছেন মূলত সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সরব উপস্থিতির কারণে। সেখানে তিনি খোলামেলা ও অনেক সময় ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজের মতামত তুলে ধরেন। কখনো মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে জ্বালানির দাম নিয়ে মন্তব্য করেছেন, আবার কখনো ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের ধরন নকল করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছেন।
তবে গালিবাফ শুধু কঠোর ভাষার মানুষ নন—তেহরানের মেয়র থাকাকালে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিয়েছেন, এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে হলে কথোপকথনের বিকল্প নেই—আর সেই মনোভাব ইরানের মধ্যেও আছে।

Social Plugin