১০ জনের বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ক্যাম্প ন্যু জয় করল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ

বুধবার রাতে ক্যাম্প নউ-তে যা হলো, তা বার্সেলোনার জন্য নিঃসন্দেহে একটা বড় ধাক্কা। ম্যাচের শুরুটা যেভাবে করেছিল, তাতে মনে হচ্ছিল নিয়ন্ত্রণ পুরো তাদের হাতেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২-০ হেরে মাঠ ছাড়তে হলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে। ফলে সেমিফাইনালে ওঠার রাস্তা এখন বেশ কঠিন হয়ে গেল।

প্রথমার্ধে বার্সা সত্যিই ভালো খেলছিল। বল দখল, পাসিং, আক্রমণে চাপ—সব দিক থেকেই তারা এগিয়ে ছিল। মার্কাস রাশফোর্ড শুরু থেকেই বিপজ্জনক ছিলেন। গোলরক্ষক হুয়ান মুসো কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে হয়তো ম্যাচের ছবি অন্যরকম হতে পারত।

লামিন ইয়ামাল শুরুতে একটু গড়বড় করলেও দ্রুত নিজেকে গুছিয়ে নেয়। ডান দিক দিয়ে বারবার সমস্যায় ফেলছিল অ্যাটলেটিকোর রক্ষণকে। সব মিলিয়ে, ওই সময়টায় বার্সার একটা গোল পাওয়া প্রাপ্যই ছিল। তবে সেটাই আসেনি।

অ্যাটলেটিকোর দিক থেকে সবচেয়ে বড় সুযোগটা আসে জুলিয়ান আলভারেজের পায়ে, কিন্তু একেবারে একা অবস্থায়ও তিনি গোলরক্ষকের গায়ে মেরে বসেন। তখনও ম্যাচ পুরো খোলা ছিল।

৪০ মিনিটে সবকিছু পাল্টে যায়। জিউলিয়ানো সিমিওনে যখন প্রায় একা গোলের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন পাউ কুবার্সি তাকে ফাউল করেন। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও পরে সেটা বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হয়। নিয়মের দিক থেকে সিদ্ধান্তটা ঠিকই—গোলের পরিষ্কার সুযোগ নষ্ট হয়েছিল।

এরপরই ধাক্কাটা আসে। ফ্রি-কিক থেকে আলভারেজ দারুণ একটা গোল করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন। বিরতিতে যাওয়ার সময় বার্সা এক গোল পিছিয়ে, তার ওপর ১০ জনে খেলতে হচ্ছে—দ্বিতীয়ার্ধ যে কঠিন হবে, সেটা তখনই বোঝা যাচ্ছিল।

তবে রেফারিং নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকছেই। অ্যাটলেটিকোর অধিনায়ক কোকে কয়েকটা কড়া ফাউল করেও একবারের বেশি কার্ড দেখলেন না। সেই জায়গাটা বার্সার দিক থেকে হতাশাজনকই।

দ্বিতীয়ার্ধে হান্সি ফ্লিক কিছু পরিবর্তন আনেন। পেদ্রি আর লেভানডফস্কিকে তুলে গাভি ও ফেরমিন লোপেজকে নামান, যাতে দলে একটু বাড়তি শক্তি আসে। রাশফোর্ডকে আরও সামনে ঠেলে দেওয়া হয়। কিন্তু সুযোগ তৈরি করা খুব একটা সহজ হয়নি। একটা বড় সুযোগ এলেও সেটা কাজে লাগানো যায়নি।

অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো ঠিক জানত কী করতে হবে। তারা খেলা ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং বার্সার রক্ষণে ফাঁকা জায়গা খুঁজতে থাকে। সেখান থেকেই দ্বিতীয় গোল। মাত্তেও রুগেরির ক্রস থেকে আলেকজান্ডার সোরলথের ভলি—খুব সুন্দর ফিনিশ, আর তাতেই ম্যাচ প্রায় শেষ।

শেষদিকে বার্সা একটা গোল ফেরানোর চেষ্টা করেছিল, কারণ দ্বিতীয় লেগের আগে সেটা খুব দরকার ছিল। কিন্তু আর কিছুই হলো না। শুরুটা যতটা আশার ছিল, শেষটা ততটাই হতাশার।

তবে সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি এখনও। আগেও কঠিন জায়গা থেকে ফিরেছে বার্সা। যদিও এবার দ্বিতীয় লেগটা হবে মাদ্রিদে, আর রাফিনহাকে পাওয়া যাবে না—তবু সুযোগ একেবারে নেই, এমনও নয়। এখন দেখার, তারা কতটা লড়াই দেখাতে পারে।