গুয়াহাটির ম্যাচটা আসলে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—শুরুর ঝড় আর শেষের ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। আর এই দুই কাজটাই করে দিল রাজস্থান রয়্যালসের দুই তরুণ ব্যাটার—বৈভব সূর্যবংশী আর ধ্রুব জুরেল।
প্রথমে ব্যাট করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৮ উইকেটে ২০১ তোলে। শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরে যান ফিল সল্ট। দেবদূত পাদিক্কালও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তখনই দায়িত্ব নেন বিরাট কোহলি, কিন্তু সেট হওয়ার পরও ৩২ রানে রবি বিষ্ণোইয়ের গুগলিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফলে চাপে পড়ে যায় বেঙ্গালুরু।
এরপর ক্রুণাল পান্ডিয়া, জিতেশ শর্মা, টিম ডেভিড—কেউই বড় কিছু করতে পারেননি। কিন্তু একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক রজত পাটীদার। ৪০ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে দলকে ভরসা দেন তিনি। শেষদিকে বেঙ্কটেশ আয়ার ঝড় তোলেন—মাত্র ১৫ বলে ২৯ রান, যার মধ্যে শেষ ওভারের বড় শটগুলো বিশেষভাবে নজর কাড়ে। সব মিলিয়ে ২০০ পেরোয় বেঙ্গালুরু।
তবে সেই রানও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হলো না। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল রাজস্থান। ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী যেন আলাদা ছন্দে খেলছিল। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে মাত্র ২৬ বলে ৭৮ রান করে ম্যাচটা প্রায় একাই বের করে দেন তিনি। যশস্বী জয়সওয়ালও শুরুতে হাত খুলেছিলেন, যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
বৈভব আউট হওয়ার সময়ই খেলা অনেকটা রাজস্থানের দখলে। তারপর বাকিটা সামলান ধ্রুব জুরেল। কোনো তাড়াহুড়ো নয়, আবার গতি কমিয়েও নয়—পরিস্থিতি বুঝে খেললেন। ৪৩ বলে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর দুই ওভার বাকি থাকতেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
মাঝে হেটমায়াররা কিছু করতে পারেননি, কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। জুরেল নিজের মতো করে খেলা শেষ করেছেন।
এই জয়ে টানা চার ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আরও শক্ত জায়গা করে নিল রাজস্থান। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট এখন আট—আর দলটার ফর্ম দেখে মনে হচ্ছে, আপাতত তাদের থামানো সহজ হবে না।

Social Plugin