বুধবার আইপিএল ২০২৬–এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেটের জয়ে দারুণ ছন্দে দেখা গেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিতে তারা এখন পয়েন্ট তালিকার একদম ওপরে। নিজেদের মাঠ এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি দলটিকে।
ম্যাচের পর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জীতেশ শর্মা কথা বলতে গিয়ে বললেন, এ বছরের সাফল্যের পেছনে আসলে একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা আছে। তার কথায়, দল এখন উইকেট বুঝে খেলছে, অযথা ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের বদলাচ্ছে। আর এই বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটটাই তাদের ঘরের মাঠে ধারাবাহিক জয়ের পথ করে দিচ্ছে।
এই ম্যাচে বিরাট কোহলি শুরু থেকে খেলেননি। আগের ম্যাচে সামান্য চোট থাকায় তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তবে রান তাড়া করার সময় ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে নেমে ৩৪ বলে ৪৯ রান করে দলের কাজ অনেকটাই সহজ করে দেন তিনি। ছয়টি চার আর একটি ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। এখন পর্যন্ত ২২৮ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবেও তিনি এগিয়ে আছেন।
জীতেশ পরিষ্কার করে বলেন, কোহলির ওপর অযথা চাপ দিতে চায়নি দল। একটু অস্বস্তি থাকায় তাকে পুরো ম্যাচ খেলানো হয়নি, তবে এখন তিনি ঠিক আছেন—এটাই স্বস্তির জায়গা। দলের কাছে তিনি বড় সম্পদ, তাই ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানে হয় না।
দলের ব্যাটিং মানসিকতা নিয়েও জীতেশ খোলামেলা কথা বলেন। তার মতে, এ বছর ব্যাটাররা একসঙ্গে ঠিক করেছে—সুযোগ পেলেই বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, পিছু হটার মানসিকতা নেই। মাঠে তাদের খেলাতেই সেটা স্পষ্ট।
এদিন বল হাতে নজর কাড়েন তরুণ পেসার রাসিখ সালাম দার। চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তিনি। জীতেশের মতে, রাসিখের মধ্যে প্রতিভা আগেই ছিল, এখন সে বুঝতে শিখেছে কখন কোন অস্ত্রটা ব্যবহার করতে হবে। সঠিক কোচিং, ভালো পরিবেশ—এসব পেলে খেলোয়াড়রা নিজেদের আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত অনুশীলনই একজন বোলারকে ধারালো করে তোলে। অনুশীলনের সময় ভুল হতেই পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকেই শেখা জরুরি। বারবার চর্চা করতে করতে একটা সময় সেই দক্ষতাগুলো এমনভাবে গড়ে ওঠে যে, ম্যাচের চাপের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই বেরিয়ে আসে।

Social Plugin