প্রথম লেগে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার পর এমন এক মাঠে নামতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে, যেখানে এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন নিজেদের ঘরের পাঁচটি ম্যাচই জিতেছিল। চ্যালেঞ্জটা যে কঠিন হবে, তা শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল। তবু মাদ্রিদ যেভাবে ম্যাচ শুরু করল, সেটা এক কথায় চমকে দেওয়ার মতো—খেলা শুরুর মাত্র ৩৪ সেকেন্ডের মধ্যেই আরদা গুলার গোল করে বসেন। ম্যানুয়েল নয়ারের পাসটা পেয়ে দূর থেকেই প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এই দ্রুত গোলের পর প্রথমার্ধটা জমে ওঠে দারুণভাবে। জশুয়া কিমিচের কর্নার থেকে হেড করে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ বায়ার্নকে আবার লড়াইয়ে ফেরান। এরপর আন্দ্রি লুনিন কিমিচের আরেকটি শট সামাল দিলেও, গুলার আবারও জ্বলে ওঠেন—এক দারুণ ফ্রি-কিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন সমতায় আনেন।
এরপর হ্যারি কেইনের নামটা উঠে আসাই স্বাভাবিক ছিল। বায়ার্নের এই নির্ভরযোগ্য গোলদাতা সুযোগ পেয়েই নিখুঁত ফিনিশে দলকে আবার এগিয়ে দেন।
তবে মাদ্রিদও খুব দ্রুত জবাব দেয়। এই মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করে সফরকারী দলকে আবার সামনে নিয়ে যান। এর মাঝেই ভিনিসিয়াস একবার বল পোস্টে মেরেছিলেন, যা গোল হলে চিত্রটা আরও বদলে যেতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি একটু কমতে পারত, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। দুই দলই একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে, আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত টানটানই থেকেছে।
শেষ মুহূর্তে নাটক আরও বাড়ে। ম্যাচ শেষের চার মিনিট আগে বদলি নামা এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তারপর বক্সের বাইরে থেকে লুইস দিয়াজের বাঁকানো শট ডিফেন্ডার এডার মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়—লুনিনের আর কিছু করার ছিল না।
মাদ্রিদ তখন সবকিছু ছেড়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সেই সুযোগেই ম্যাচের একেবারে শেষ স্পর্শে গোল করে বায়ার্নের জয় নিশ্চিত করেন মাইকেল ওলিসে। এমন এক ম্যাচ, যেখানে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত ছিল না।

Social Plugin