লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তালিকা থেকে মৃত, ভুয়ো, অভারতীয় এবং অস্তিত্বহীন প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার নাম বাদ দিয়ে শুরু হতে চলেছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মঙ্গলবার এই নতুন প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ এবং অনলাইন পোর্টাল চালুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবার থেকে শুধুমাত্র প্রকৃত এবং যোগ্য উপভোক্তারাই সরকারি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
রাজ্য সরকারের দাবি, পুরনো তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে। শুধু নতুন আবেদনকারীদের নয়, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বর্তমান সমস্ত প্রাপককেও আবার আবেদন করতে হবে। অনলাইন বা অফলাইন— দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। আবেদন জমা পড়ার পর সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করবে প্রশাসন। কারণ ভবিষ্যতে কেন্দ্র ও রাজ্যের অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গেও এই পরিবারগুলিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এদিন প্রকাশিত ১২ পাতার আবেদনপত্রে উপভোক্তার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, পরিচয়পত্র, পারিবারিক তথ্য— সবই দিতে হবে। এমনকি এসআইআরে নাম বাদ গিয়েছে কি না, কিংবা ভোটাধিকার সংক্রান্ত কোনও মামলা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন রয়েছে কি না, সেই তথ্য জানানোর জায়গাও রাখা হয়েছে ফর্মে।
মঙ্গলবার সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিডিওদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে গোটা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার প্রথমে মনে করেছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর তালিকা যথেষ্ট যাচাই করা। কিন্তু পরে দেখা যায়, মহিলাদের জন্য চালু হওয়া প্রকল্পের সুবিধা পুরুষেরাও পেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি এক ব্যক্তির নাম, ঠিকানা এবং ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অন্তত ৩০ লক্ষ মৃত, ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে কিংবা যাঁরা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কোনও আবেদনও করেননি, তাঁদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই সমস্ত নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যোগ্য উপভোক্তারা কীভাবে সুবিধা পাবেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আগামী ২ তারিখের মধ্যে যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর থেকেই সরাসরি তিন হাজার টাকা পাঠানো শুরু হবে। যাচাই সম্পূর্ণ হলেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বর্তমান উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় চলে আসবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরনো প্রকল্পের সুবিধাও চালু থাকবে। তাই সাধারণ মানুষকে অযথা ভিড় বা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বারণ করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে আবেদন এবং যাচাই প্রক্রিয়া, যা চলবে আগামী ৯০ দিন। বিডিও, পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মীদের পাশাপাশি বিধায়কদেরও এই কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। আগামী ৩০ দিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে আবেদন করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি ১৫, ১৬ এবং ১৭ মে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরেও আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সোমবার থেকে মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। পরে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কার্ডও দেওয়া হবে।

Social Plugin