৮৪ দিনের অপেক্ষার অবসান, প্রকাশিত মাধ্যমিকের ফল: প্রথম উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ, পাশের হারে এগিয়ে কালিম্পং

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে প্রকাশিত হল এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮৪ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পর্ষদের তরফে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রকাশ করা হয়েছে মেধা তালিকা।

পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে মাধ্যমিকের মোট পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ। প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে মোট ১৩১ জন পরীক্ষার্থী। এ বছরের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে ৯৯.৭১ শতাংশ।

বাবাকে হারানোর পরও থামেনি লড়াই, মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম রায়গঞ্জের অভিরূপ

মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হতেই গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলায় এখন একটাই নাম ঘুরছে মুখে মুখে — অভিরূপ ভদ্র। রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দিরের এই ছাত্র এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮। শুক্রবার সকালে ফল ঘোষণার পর থেকেই অভিরূপদের বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক থেকে শুরু করে পরিচিত মানুষজন একে একে পৌঁছে যান শুভেচ্ছা জানাতে। শুধু সাধারণ মানুষই নন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের তরফেও আসে অভিনন্দন বার্তা। রায়গঞ্জের জয়ী বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরীও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অভিরূপকে। বিভিন্ন বণিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও আসে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার বার্তা। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক কঠিন লড়াইয়ের গল্প। অভিরূপ জানিয়েছে, ২০২০ সালে যখন সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, তখনই বাবাকে হারায়। তারপর থেকে মায়ের হাত ধরেই এগিয়েছে তার জীবন ও পড়াশোনা। নিয়ম মেনে প্রতিদিনের প্রস্তুতি আর একাগ্রতাই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করে সে। ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় অভিরূপ। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি নিয়ে তার আগ্রহ ছিল বলেও জানিয়েছে সে। ছেলের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা ইন্দ্রানী ভদ্র। তাঁর কথায়, ছেলেকে কোনওদিন আলাদা করে পড়তে বলতে হয়নি। নিজের ইচ্ছাতেই নিয়ম করে পড়াশোনা করত সে। সেই পরিশ্রমেরই ফল আজকের এই সাফল্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শুধু অভিরূপই নয়, এ বছর উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে মোট ১৪ জন ছাত্রছাত্রী রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। জেলার শিক্ষামহলেও তাই খুশির আবহ স্পষ্ট।

জেলার ফল এবারও নজর কাড়ল। পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। তৃতীয় স্থানে কলকাতা। ফলাফল দেখে স্পষ্ট, মেধার নিরিখে জেলার ছাত্রছাত্রীরা শহরের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে।

এ বছরের মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বীরভূমের সরোজিনী দেবী সরস্বতী শিশু বিদ্যামন্দিরের ছাত্র প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। তিনি পেয়েছেন ৬৯৬ নম্বর। তৃতীয় স্থানে রয়েছে মোট ১০ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫।

এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রায় ৯ লক্ষ পরীক্ষার্থী। আগের বছরের মতো এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যাই ছিল বেশি। রাজ্যজুড়ে মোট ২৬৮২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অনলাইনে ফল প্রকাশের পাশাপাশি সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন ক্যাম্প অফিসে মার্কশিট ও সার্টিফিকেট বিতরণও শুরু হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেগুলি সংগ্রহ করার পর নিজেদের বিদ্যালয় থেকেই ছাত্রছাত্রীরা হাতে পাবে মার্কশিট।

পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, নিম্নলিখিত সরকারি ওয়েবসাইটে ফলাফল দেখা যাবে—

www.wbbsedata.com

www.wbbse.wb.gov.in 

ছবি: সংগৃহীত