পঁচিশে বৈশাখে বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ, ব্রিগেডে নজিরবিহীন আয়োজন ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে শনিবার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় এনে দিয়েছে দলকে ক্ষমতার দোরগোড়ায়। আর সেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এখন কার্যত উৎসবের আবহ গেরুয়া শিবিরে।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শপথগ্রহণের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ২৫শে বৈশাখকে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। শনিবার সকাল ১১টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এই দিনটিকে ঘিরে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি।

শপথের আগেই শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছনোর কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনি নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিষদীয় বৈঠকে যোগ দেবেন। সেই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জে পি নাড্ডা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতার। এছাড়া বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জোটসঙ্গী দলের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামী, নাগাল্যান্ডের নেফিউ রিও, অরুণাচল প্রদেশের পেমা খান্ডু, সিকিমের প্রেম সিং তামাং-সহ একাধিক রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্রিগেডের মঞ্চে শক্তিপ্রদর্শনের বড় আয়োজন করতে চলেছে বিজেপি।

নির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। সেই জয়ের পর প্রথম সরকার গঠনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্রিগেডে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই ময়দানেই তৈরি হচ্ছে বিশাল মঞ্চ ও একাধিক বিশেষ হ্যাঙ্গার। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের জন্যও তৈরি করা হয়েছে পৃথক এনক্লোজার।

নিরাপত্তার দিক থেকেও কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। প্রায় চার হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন। থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কুইক রেসপন্স টিম এবং বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। গোটা এলাকা ড্রোনে নজরদারির আওতায় থাকবে। পাশাপাশি বসানো হচ্ছে একাধিক মেটাল ডিটেক্টর স্ক্যানার। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ব্রিগেড পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিছক ক্যালেন্ডারের মিল নয়। বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ২৫শে বৈশাখকে সামনে রেখে বিজেপি বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। সেই কারণেই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ইঙ্গিতও স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।

 ছবি: সংগৃহীত