ডার্বির মঞ্চে শিরোপার লড়াই, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝেই মুখোমুখি মোহন বাগান–ইস্ট বেঙ্গল

অনেক দিন পর আবার সেই চেনা উত্তেজনা—দেশের সেরা লিগের দৌড়ে কলকাতার দুই প্রধান ক্লাব একসঙ্গে। রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডার্বি জিতলেই যে কোনও একটি দল শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে যাবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু এখন মোহন বাগান আর ইস্ট বেঙ্গলকে ঘিরেই।

তবে মাঠের এই উত্তাপের আড়ালে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তাও উঁকি দিচ্ছে। ইস্ট বেঙ্গলের বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বাণিজ্যিক অংশীদার জিনিয়াস স্পোর্টসকে নিয়ে অসন্তোষ বাড়লে সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও পিছিয়ে আসতে পারেন—এমন আশঙ্কা ঘোরাফেরা করছে। এরপর কী হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবু আপাতত দুই দলই চাইবে মরশুমের সেরা খেলাটা তুলে ধরে শিরোপার দিকে আরও এক ধাপ এগোতে। বাংলার ফুটবলের জন্য সেটাই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

পয়েন্ট তালিকার হিসেবে দু’দলের অবস্থান প্রায় সমান। ১১ ম্যাচে দু’দলেরই সংগ্রহ ২২ পয়েন্ট, তবে গোল পার্থক্যে সামান্য এগিয়ে ইস্ট বেঙ্গল। তাই ডার্বি ড্র হলেও লাল-হলুদ শিবিরের খুব একটা ক্ষতি নেই। কিন্তু কোচ অস্কার ব্রুজো স্পষ্টই জয়ের দিকেই তাকিয়ে আছেন। মিগুয়েল, বিপিন আর বিষ্ণুর মধ্যে বোঝাপড়া তাঁর দলের বড় শক্তি। মাঝমাঠে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের রক্ষণে কিছু ঘাটতি থাকলেও আক্রমণভাগে তাঁর পাস বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সামনে ইউসেফ এজ্জেজারি গোলের দায়িত্বে, আর রক্ষণে ভরসা আনোয়ার ও সিবলে। উইং-ব্যাক রাকিপ ও জয় গুপ্তা নিজেদের খেলাটা ঠিকঠাক খেলতে পারলে কোচের চিন্তা অনেকটাই কমবে। যদিও চোটের কারণে সাউল ক্রেসপো এবং কার্ড সমস্যায় শৌভিকের অনুপস্থিতি কিছুটা প্রভাব ফেলতেই পারে।

অন্যদিকে মোহন বাগানের খেলা এ মরশুমে অনেকটাই নির্ভর করছে ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর। জেমি ম্যাকলারেন, লিস্টন কোলাসো বা কামিংস—এই তারকাদের হাতেই অনেকটা ভাগ্য নির্ভর করছে। আপুইয়ার ফিট হয়ে ওঠা কোচ লোবেরার জন্য স্বস্তির খবর। তবে সেট পিস থেকে গোল করার ক্ষেত্রে আরও ধার বাড়াতে হবে সবুজ-মেরুনদের। আর ম্যাকলারেনকে আটকাতে পারলেই ইস্ট বেঙ্গলের শিরোপা স্বপ্ন অনেকটাই এগিয়ে যাবে—এ কথাও বলছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে, ডার্বি শুধু একটা ম্যাচ নয়—এটা এখন শিরোপার দোরগোড়ায় দাঁড়ানো এক বড় লড়াই, যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনের কলকাতার ফুটবলেও।