পরপর তিনটে জয়ের পর আবার নতুন করে আশার আলো দেখছে চেন্নাই সুপার কিংস। ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনো প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে আছে। শুক্রবার লখনউতে ঋতুরাজ গায়কোয়াড়দের সামনে লখনউ সুপার জায়ান্টস। তবে প্রতিপক্ষ দল আগেই শেষ চারের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে। তাই হারানোর কিছু নেই—এই মানসিকতা নিয়েই নামবে ঋষভ পন্থের দল। আর সেই নির্ভার ক্রিকেটই চেন্নাইয়ের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এই ম্যাচে অনেকেই মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখার আশা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এখনো পুরোপুরি চোটমুক্ত নন, দলের সঙ্গে লখনউতেও যাননি। ফলে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই যে দলটা জিতে আসছে, সেই ছকেই নামতে পারে চেন্নাই।
ব্যাটিং লাইন-আপে সাম্প্রতিক সংযোজন উর্ভিল প্যাটেল বেশ ভরসা জুগিয়েছেন। গত ম্যাচে তাঁর ঝোড়ো ইনিংস নজর কাড়ে। ওপেনিংয়ে সঞ্জু স্যামসন ও ঋতুরাজ—দু’জনেই ইনিংস বড় করতে পারেন। মাঝের সারিতে ব্রেভিস, শিবম দুবে আর কার্তিক শর্মা দলকে ভরসা দিচ্ছেন। বল হাতে পেস আক্রমণে জেমি ওভারটনের সঙ্গে থাকবেন মুকেশ চৌধুরি ও অংশুল কম্বোজ। স্পিন বিভাগে আকিল হোসেন ও নুর আহমেদ—দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
অন্যদিকে, লখনউয়ের জন্য এই ম্যাচটা অনেকটাই পরীক্ষার মঞ্চ। প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন কিছু চেষ্টা করার সুযোগ আছে তাদের সামনে। গত ম্যাচে জস ইংলিশ ভালো রান করেছিলেন, তাই মিচেল মার্শের সঙ্গে ওপেন করতে পারেন তিনিই।
নিকোলাস পুরান কিন্তু এ মরসুমে ধারাবাহিক নন। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচেও ব্যর্থ ছিলেন, ফলে তাঁকে বসিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ নিজেও ফর্মে নেই, আর টুর্নামেন্ট প্রায় শেষ হয়ে এলেও মার্করাম এখনো নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই দল বদলের ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
বলিংয়েও সমস্যা কম নয়। সামি প্রত্যাশা মতো পারফর্ম করতে পারছেন না। তুলনায় প্রিন্স যাদব কিছুটা লড়াই করেছেন। স্পিনে দিগ্বেশ রাঠি কার্যত ব্যর্থ। সব মিলিয়ে লখনউয়ের অবস্থা এমন, যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
তবে এই অবস্থাতেই অনেক সময় দল হঠাৎ করে নিজেদের সেরা খেলাটা বের করে আনে। আর সেটাই যদি হয়, তাহলে চেন্নাইয়ের জন্য ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin