গত ম্যাচের দিন ইডেনের বাইরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি। আইপিএল চললেও ভোটের আবহে কলকাতার ক্রিকেটপাগল শহরে যেন সেই চেনা উন্মাদনার খানিক ঘাটতি ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার ইডেনের সামনে পৌঁছেই বোঝা গেল, হাওয়া বদলেছে। আর সেই বদলের কেন্দ্রে কলকাতা নাইট রাইডার্স নয়, একজনই— রোহিত শর্মা।
ক্লাব হাউসের সামনে ব্যারিকেডের ধারে দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরিয়ে অপেক্ষা করছেন সমর্থকেরা। কেউ কল্যাণী থেকে এসেছেন, কেউ আবার কাকদ্বীপ থেকে। উদ্দেশ্য একটাই— একবার সামনে থেকে দেখা ‘হিটম্যান’-কে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হল তাঁদের। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন, আর রোহিত এলেনই না মাঠে। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে ভক্তদের মুখে যেন একটাই সুর— দেখা আর মিলল না।
তবে বুধবারের ম্যাচে সেই আক্ষেপ মিটতে পারে। কারণ ইডেন রোহিতের খুবই পছন্দের মঞ্চ। এই মাঠেই ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একদিনের ক্রিকেটে ২৬৪ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড এখনও অটুট। বয়স বেড়েছে, অভিজ্ঞতা বেড়েছে, কিন্তু রান করার ক্ষুধা কমেনি। আর সেটাই কেকেআরের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
শক্তির বিচারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এই মুহূর্তে অনেকটাই এগিয়ে। চোট কাটিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে। চাপমুক্ত দল হিসেবে মুম্বই আরও ভয়ঙ্কর। শুরুতে রোহিত শর্মা আর রায়ান রিকেলটন জমে গেলে সমস্যায় পড়তে পারে নাইটদের বোলিং বিভাগ। তার উপর মাঝের সারিতে নমন ধীর, তিলক বর্মা, উইল জ্যাকস, শেরফেন রাদারফোর্ডদের মতো ব্যাটার রয়েছেন, যাঁরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। সূর্যকুমার যাদবও ফিট বলেই খবর। যদিও ওপেনার কুইন্টন ডি’কক ছিটকে গিয়েছেন।
বোলিং বিভাগে অবশ্য আলাদা নজর থাকবে যশপ্রীত বুমরাহর দিকে। এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত তাঁর সেরা ছন্দ দেখা যায়নি। কিন্তু বড় ম্যাচে বড় ক্রিকেটাররা কখন ছন্দে ফিরবেন, তার নিশ্চয়তা থাকে না।
অন্যদিকে, পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ার পর কেকেআর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। অঙ্কের হিসেবে প্লে-অফের রাস্তা এখনও খোলা। তবে বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে। সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে নেট রান রেটও। অজিঙ্ক রাহানের দলের কাছে এখন প্রতিটি ম্যাচ কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই।
মুম্বইকে হারাতে পারলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইবে নাইটরা। চলতি মরশুমে ওয়াংখেড়েতে ২২০ রান করেও হেরে ফিরতে হয়েছিল। সেই হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ এবার ঘরের মাঠে। শেষ ছ’টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জিতে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে দল।
ফিন অ্যালেনের ফর্মে ফেরা বদলে দিয়েছে ব্যাটিংয়ের ছবিটা। রাহানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করার দায়িত্বও সম্ভবত তাঁর কাঁধেই থাকবে। তিন নম্বরে রঘুবংশী ধারাবাহিকভাবে ভরসা জোগাচ্ছেন। ছন্দে রয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন এবং রিঙ্কু সিংও। চোটের কারণে মাথিশা পাথিরানা না থাকায় রভম্যান পাওয়েলকে দেখা যেতে পারে একাদশে।
ইডেনের উইকেটও ম্যাচের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পিচে ঘাস প্রায় নেই বললেই চলে। শুরুতে ব্যাটিং সহজ হলেও ম্যাচ গড়ালে উইকেট ধীর হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্পিনারদের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আর সেখানেই কেকেআরের আশা। সুনীল নারিন দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। চোটের সমস্যা থাকলেও বরুণ চক্রবর্তীকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। সঙ্গে অনুকূল রায়কেও দেখা যেতে পারে। সব মিলিয়ে রোহিত, রিকেলটনদের আটকে দিতে স্পিন আক্রমণকেই বড় অস্ত্র করতে চাইছে কেকেআর।
ইডেনে তাই লড়াই শুধু দুই দলের নয়। একদিকে প্লে-অফে টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে রোহিত-ঝড়ের আশঙ্কা। বুধবারের রাত তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য জমজমাট হওয়ার অপেক্ষায়।

Social Plugin