নির্বাচন মিটতেই জ্বালানিতে ধাক্কা: পেট্রোল-ডিজেলের দামে ৩ টাকা বৃদ্ধি, বাড়ল সিএনজিও

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হল। শুক্রবার থেকে দেশের চারটি বড় শহরে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বাড়ল।

বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও সাধারণ মানুষকে জ্বালানি বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার ঠিক একদিনের মধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এল। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, এত তাড়াহুড়ো কেন।

দামের দিকে তাকালে ছবিটা পরিষ্কার। দিল্লিতে এতদিন পেট্রোলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৯৪ টাকা ৭৭ পয়সা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯৭ টাকা ৭৭ পয়সা। ডিজেলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—৮৭ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকা ৬৭ পয়সা।

কলকাতায় পেট্রোলের দাম এখন লিটার প্রতি ১০৮ টাকা ৭৪ পয়সা। মুম্বইয়ে তা ১০৬ টাকা ৬৮ পয়সা, আর চেন্নাইয়ে ১০৩ টাকা ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দামও সব শহরেই বেড়েছে। কলকাতায় লিটার প্রতি ডিজেলের দাম এখন ৯৫ টাকা ১৩ পয়সা, মুম্বইয়ে ৯৩ টাকা ১৪ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা।

শুধু পেট্রোল-ডিজেলেই থামেনি, সিএনজির দামও বেড়েছে। দিল্লিতে কেজি প্রতি সিএনজি ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৭ টাকা।

এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যে সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। পরিবহণ খরচ বাড়বে, তার সঙ্গে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কা ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে।

আর সময়টা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপ কমতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হল।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা, জ্বালানির বাজারে চাপ তৈরি করেছে। মার্চ মাসেই সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী সতর্ক করেছিলেন, সামনে বড় সংকট আসতে পারে এবং আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তখন সেই মন্তব্য খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও, এখন পরিস্থিতি অন্য কথা বলছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানির এই দামবৃদ্ধি আবারও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের সমীকরণ বদলে দিতে চলেছে।

  ছবি: সংগৃহীত