ফের রেল দুর্ঘটনার খবর। সোমবার রাতে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে যোগ নগরী রেল স্টেশনের কাছে উজ্জয়িনী এক্সপ্রেসের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় সাড়ে ন’টা নাগাদ। তবে সৌভাগ্যের বিষয়, দুর্ঘটনার সময় ওই বগিগুলিতে কোনও যাত্রী ছিলেন না। ফলে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ঋষিকেশের খণ্ডগাঁও এলাকায় তখন লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, ব্রেকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের এলাকায় কিছুটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। পরে রেল সুরক্ষা বাহিনীর কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে একাধিক রেল দুর্ঘটনার খবর সামনে আসায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সোমবার সকালেই বিহারের সাসারাম রেল স্টেশনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সকাল প্রায় ছ’টা নাগাদ প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের একটি কামরা থেকে আচমকা ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুনের শিখা দেখা দেয়। আগুনে কামরাটি প্রায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এর ঠিক আগের দিন, রবিবার মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলাতেও একই ধরনের উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। তিরুবনন্তপুরম–হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন লাগে। সেই সময় বগিটির মধ্যে ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। যদিও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
পরপর এই ঘটনাগুলি রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, শুধু তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য আরও কড়া নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Social Plugin