চোটের ধাক্কা কাটিয়ে ফরাসি ওপেনে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, নতুন রেকর্ড গড়ে শুরু জকোভিচের

ফিটনেস নিয়ে সংশয় ছিল। কোমরের চোট সারিয়ে ফরাসি ওপেনে নামার আগে নোভাক জকোভিচকে ঘিরে প্রশ্নও কম ওঠেনি। তবে কোর্টে নামতেই সার্বিয়ান তারকা বুঝিয়ে দিলেন, এখনও বড় মঞ্চে লড়াই করার ক্ষুধা তাঁর অটুট। ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্নকে সামনে রেখেই প্যারিসের লাল সুরকির কোর্টে অভিযান শুরু করলেন তিনি।

প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্সের জিওভানি এমপেৎজি পেরিকার্ডের বিরুদ্ধে শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম সেট হাতছাড়া হওয়ার পর কিছুটা চাপে পড়েছিলেন জকোভিচ। কিন্তু অভিজ্ঞতা আর মানসিক দৃঢ়তা দিয়েই ম্যাচে ফিরলেন তিনি। চার সেটের লড়াই শেষে ৫-৭, ৭-৫, ৬-১, ৬-৪ ফলে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।

এই ম্যাচে শুধু জয় নয়, তৈরি হল নতুন এক মাইলফলকও। পুরুষদের এককে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যামে খেলার রেকর্ড এখন একার দখলে জকোভিচের। ফরাসি ওপেনে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পৌঁছে গেলেন ৮২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম অংশগ্রহণের নজিরে। পিছনে ফেললেন রজার ফেডেরার এবং ফেলিসিয়ানো লোপেজকে, যাঁদের দু’জনেরই গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেলার সংখ্যা ছিল ৮১।

পরিসংখ্যান আরও চমকে দেওয়ার মতো। ৮২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামে অংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই ২৪টি খেতাব জিতেছেন জকোভিচ। আর সেই তালিকায় নতুন সংযোজনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন সার্বিয়ান তারকা। গত দুই দশকে গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে কখনও হারেননি তিনি। এদিনও সেই রেকর্ড অটুট থাকল।

শনিবারই ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন জকোভিচ। জন্মদিনের আবহ সরিয়ে রেখে নেমেছিলেন কোর্টে। তবে ২২ বছরের তরুণ প্রতিপক্ষ তাঁকে শুরুতে যথেষ্ট চাপে ফেলেছিলেন। প্রথম সেট হারার পর কিছুটা ছন্দ খুঁজতে দেখা গেলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন তৃতীয় বাছাই তারকা। প্রায় ২ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের লড়াই শেষে হাসিমুখেই কোর্ট ছাড়েন তিনি।

ম্যাচের পর জকোভিচ বলেন, এই জয় তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাস দেবে।

তবে দিনটা ভালো যায়নি স্ট্যান ওয়ারিঙ্কার। ৪১ বছরের অভিজ্ঞ টেনিস তারকা প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে গেলেন। জেসপার ডি জঙ্গের বিরুদ্ধে চার সেটের লড়াইয়ে হার মেনে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় তাঁকে।

মহিলাদের বিভাগেও ছিল নজরকাড়া পারফরম্যান্স। দ্বিতীয় বাছাই এলিনা রিবাকিনা সহজ জয় তুলে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছেন। একই পথে এগিয়েছেন তৃতীয় বাছাই ইগা সুইয়াটেকও। দু’জনেই প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনও সুযোগ না দিয়েই ম্যাচ শেষ করেছেন।

এদিকে প্যারিসে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রচণ্ড গরমে শুধু খেলোয়াড় নন, গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও ভুগছেন অস্বস্তিতে। মাঠজুড়ে বেড়েছে জলের চাহিদাও। তবে গরম, চাপ, প্রত্যাশা— সব কিছুর মাঝেও ফরাসি ওপেনের শুরুতেই আলো কাড়লেন একটাই নাম, নোভাক জকোভিচ।