অতীতের হতাশা ভুলে খেতাবের স্বপ্ন, পাঞ্জাব ম্যাচ এখন ইস্টবেঙ্গলের বড় পরীক্ষা

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে এখনও অনেক পুরনো ক্ষত টাটকা। খেতাবের এত কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হওয়ার স্মৃতি তাদের বারবার তাড়া করে ফিরেছে। কখনও সালগাওকর, কখনও ওএনজিসি, আবার কখনও শিলং লাজংয়ের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত পয়েন্ট খুইয়ে ভেঙে গিয়েছে স্বপ্ন। তাই এবারও সমর্থকেরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। তবে সেই দীর্ঘ হতাশার অধ্যায় মুছে দিতে পারে চলতি মরশুমের আইএসএল।

১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। হাতে বাকি আর মাত্র তিনটি ম্যাচ, আর প্রতিটাই এখন কার্যত নক-আউট। সেই চাপ নিয়েই সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঞ্জাব এফসি’র মুখোমুখি হবে অস্কার ব্রুজোঁর দল।

সুপার কাপের সেমিফাইনালে পাঞ্জাবকে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। গ্রিক কোচ পানাজিওটিসের দলও খেতাবের লড়াইয়ে রয়েছে জোরাল ভাবেই। ১০ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৮ পয়েন্ট। বাকি ম্যাচগুলোতে পুরো পয়েন্ট তুলতে পারলে তারাও শিরোপার দৌড়ে থেকে যাবে। তাই এই ম্যাচের গুরুত্ব দু’দলের কাছেই আলাদা।

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে পাঞ্জাব কোচ সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে ম্যাচটিকে “বিশেষ লড়াই” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে অস্কার ব্রুজোঁও প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করেই বললেন, “পাঞ্জাব খুব ভারসাম্যপূর্ণ দল। আমাদের অন্যতম কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে।”

এই পরিস্থিতিতে জয়ের বিকল্প নেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে। তাই দলগঠনেও কিছু বদলের ভাবনা রয়েছে ব্রুজোঁর মাথায়। যদিও অনুশীলনে প্রথম একাদশ নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। এডমুন্ড, বিপিন সিং এবং বিষ্ণুর গতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার পরিকল্পনা রয়েছে কোচের। বিশেষ করে বিষ্ণু ও বিপিনের সমন্বয় এই মুহূর্তে দলের অন্যতম বড় শক্তি।

মাঝমাঠে মিগুয়েলের প্রত্যাবর্তনও ইস্টবেঙ্গলকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে তিনি আবার দলের ছন্দ বদলে দিচ্ছেন। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে গত ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা দল মিগুয়েল মাঠে নামার পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

পাঞ্জাবও সেটা বুঝছে। তাই মিগুয়েলকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে তারা। জোনাল মার্কিংয়ের মাধ্যমে তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা হতে পারে। তবে অস্কার ব্রুজোঁও প্রস্তুত। নির্দিষ্ট জায়গায় না থেকে পুরো মাঠ জুড়ে ঘুরে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হতে পারে ব্রাজিলিয়ান মিডিয়োকে।

সামনে থাকছেন ইউসেফও। ১০ গোল করে তিনি এখন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মধ্যে অন্যতম। তবে শুধু পেনাল্টির উপর ভরসা করলে চলবে না। কঠিন ম্যাচে ওপেন প্লে থেকেও গোল করতে হবে তাঁকে। কারণ গত কয়েকটি ম্যাচে মাঝেমধ্যেই খেলার ভিতর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ভুল পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে করলে বিপদ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে পাঞ্জাব শিবিরেও রয়েছে কিছু সমস্যা। চোটের জন্য নিখিল প্রভুকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক ভারসাম্যে কিছু ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই অভাব ঢাকতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর দিকেই ঝুঁকছেন গ্রিক কোচ।

দলের দুই বিদেশি স্ট্রাইকার ওসুজি এবং এফিয়ং শারীরিক শক্তির ফুটবলে যথেষ্ট দক্ষ। তাঁদের পিছনে থেকে আক্রমণ সাজান স্প্যানিশ মিডিয়ো দানি রামিরেজ। পুরো আক্রমণের ছন্দ অনেকটাই তাঁর পায়ের উপর নির্ভর করে। তাই রামিরেজকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ম্যাচ কঠিন হয়ে উঠতে পারে ইস্টবেঙ্গলের জন্য।

  ছবি: সংগৃহীত