রবিবারটা যেন পুরোপুরি তরুণ প্রজন্মের দখলে ছিল তামিলনাড়ুতে। সকালে রাজনীতির মঞ্চে নতুন মুখ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়। আর সন্ধ্যায় চিপকের মাঠে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে আলো কেড়ে নিলেন তরুণ ক্রিকেটার উর্ভিল প্যাটেল। এক দিনে দুই মঞ্চে উঠে এল নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি।
চেন্নাই সুপার কিংস বনাম লখনউয়ের ম্যাচে শুরু থেকেই নজর ছিল বড় তারকাদের দিকে। কিন্তু ম্যাচ শেষে সব আলোচনা ঘুরল এক নতুন নামকে কেন্দ্র করে। গুজরাতের তরুণ ব্যাটার উর্ভিল প্যাটেল মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান করে আইপিএলের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির নজির গড়লেন। এতদিন এই রেকর্ড ছিল যশস্বী জয়সওয়ালের দখলে। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম তুলে ফেললেন উর্ভিলও।
লখনউ প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে তোলে ২০৩ রান। দলের হয়ে সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলেন জস ইংলিশ। তাঁর ৮৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস লখনউকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। তবে দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। মিচেল মার্শ, নিকোলাস পুরান, ঋষভ পন্থ কিংবা আইডেন মার্করামের ব্যাট এ দিন প্রায় নিশ্চুপই ছিল। শেষ দিকে শাহবাজ আহমেদের ২৫ বলে অপরাজিত ৪৩ রান না এলে হয়তো দু’শো পার করাই কঠিন হয়ে যেত।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না চেন্নাইয়ের। সঞ্জু স্যামসন দ্রুত ফিরে যান। তারপরই নামেন উর্ভিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ঝলক আগেই দেখা গিয়েছিল, কিন্তু আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে এ ভাবে নিজেকে মেলে ধরবেন, সেটা হয়তো অনেকেই ভাবেননি।
আভেশ খানের এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কা মেরে তিনি যেন ম্যাচের রংটাই বদলে দেন। এরপর দিগ্বেশ রাঠির ওভারেও একই তাণ্ডব। মাত্র ৮ বলেই পৌঁছে যান ৪১ রানে। তখন থেকেই গ্যালারিতে রেকর্ডের গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত ১৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেন উর্ভিল।
অর্ধশতরানের পর পকেট থেকে একটি ছোট চিরকুট বের করেন তিনি। তাতে লেখা ছিল, “বাবা, তোমার জন্য।” মুহূর্তটা আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২৩ বলে ৬৫ রান করে ফেরেন তিনি।
চেন্নাই অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ও ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। যদিও শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ ওভারে পরপর ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন শিবম দুবে। তাঁর অপরাজিত ১৫ রানের ইনিংসে চার বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় চেন্নাই।
এই জয়ে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখল চেন্নাই। অন্যদিকে লখনউ কার্যত ছিটকে গেল দৌড় থেকে। ম্যাচ চলাকালীন লখনউ শিবিরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের একটি ঘটনাও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সম্প্রতি বোর্ড এ বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল। ফলে মাঠের বাইরের সেই ঘটনাও এখন আলোচনায়।
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin