পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব যে ভারতের অর্থনীতির উপরও পড়তে শুরু করেছে, তা নিয়ে এখন আর সংশয় নেই। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্য ঘিরে দিল্লি থেকে বাণিজ্য মহল— সর্বত্রই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিদেশি মুদ্রার উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নাকি সাধারণ মানুষকে আপাতত সোনা না কেনা, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানো এবং যতটা সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। আর সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি আর নিছক পরামর্শের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকছে না বলেই মনে করছে একাংশ।
কারণ, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন কোনও বিষয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন, তখন তা ভবিষ্যতের নীতিগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা হয়। বিশেষ করে তার পরের দিন থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংগঠন যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, তা অনেকের কাছেই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ইতিমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের অন্যতম বড় সংগঠন ন্যাসকেন্ট ইনফরমেশন টেকনোলজি এমপ্লয়িজ সেনেট কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রক, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকে চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেশের স্বার্থে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা হোক। শুধু তাই নয়, সরকার চাইলে এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করলেও শিল্পমহল আপত্তি করবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাতেই তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। সাধারণত কোনও নীতি কার্যকর করার আগে সরকার শিল্পমহলের মতামত চায়। তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এবার যেন ছবিটা উল্টো। প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সংগঠনগুলি নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানাতে শুরু করেছে।
অর্থনীতি ও বাণিজ্য মহলের একাংশের মতে, এর পিছনে সরকারের নীরব সম্মতি বা উৎসাহ থাকতেই পারে। কারণ, আগে থেকেই যদি শিল্পক্ষেত্র সমর্থন জানায়, তাহলে ভবিষ্যতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত কার্যকর করা অনেক সহজ হয়। ফলে এখন প্রশ্ন একটাই— এটা কি শুধুই প্রস্তুতি, নাকি খুব শিগগিরই বড় কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র?
ছবি: সংগৃহীত

Social Plugin