প্লে-অফের টিকিট প্রায় হাতের মুঠোয়, আহমেদাবাদে আজ বড় লড়াই গুজরাত ও হায়দরাবাদের

আইপিএলের লিগ পর্ব যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্লে-অফের অঙ্ক। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং লখনউ সুপার জায়ান্ট ইতিমধ্যেই ছিটকে যাওয়ায় এখন লড়াইটা কার্যত আট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর সেই লড়াইয়ে মঙ্গলবারের গুজরাত টাইটান্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা করেই বলার।

দুই দলেরই এখন ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ এই ম্যাচ জিততে পারলেই পৌঁছে যাবে ১৬ পয়েন্টে, যা প্লে-অফের দরজা অনেকটাই খুলে দেবে। শুধু শেষ চারে ওঠাই নয়, পয়েন্ট টেবিলের প্রথম দুইয়ে থাকার দৌড়েও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

হায়দরাবাদের সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে তাদের ব্যাটিং। ট্রাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই যে তাণ্ডব চালাচ্ছেন, তা এই মরসুমে প্রায় নিয়মিত দৃশ্য। পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে দু’জনের। তাঁদের কেউ দ্রুত আউট হলেও চিন্তা কম, কারণ ঈশান কিষান এখন মিডল অর্ডারে যথেষ্ট ভরসা দিচ্ছেন। এরপর রয়েছেন হেনরিখ ক্লাসেন, যিনি কয়েক ওভারের মধ্যেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। নীতীশ রেড্ডিও ব্যাট হাতে ধারাবাহিক। বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন প্যাট কামিন্স।

অন্যদিকে গুজরাত টাইটান্স নিজেদের ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে মরিয়া। বিশেষ করে সাই সুদর্শনের ব্যাটে রান ফেরার পর দলটাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে। শুভমন গিল ছন্দে থাকলে প্রতিপক্ষ বোলারদের কাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। টানা চার ম্যাচ জিতে গুজরাত এখন দারুণ ছন্দে। মিডল অর্ডারে জস বাটলার এবং ওয়াশিংটন সুন্দরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার ব্যাট ও বল— দু’দিকেই কার্যকর।

বোলিং বিভাগেও যথেষ্ট ভারসাম্য রয়েছে গুজরাতের। স্পিন আক্রমণে রশিদ খান এখনও বড় ভরসা। পাশাপাশি মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, কাগিসো রাবাডা এবং হোল্ডারের পেস আক্রমণ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে যে কোনও সময়।

সব মিলিয়ে, প্লে-অফের অঙ্কে এই ম্যাচ শুধু দু’পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, ছন্দ এবং শীর্ষ দুইয়ে থাকার দৌড়েও বড় পরীক্ষা।

ছবি: সংগৃহীত