বৈভবের ঝড় থামাতে না পারলে বিপদ, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থানের সামনে গুজরাতের কঠিন পরীক্ষা

মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে এলিমিনেটরে কার্যত একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। শুক্রবার নিউ চণ্ডীগড়ের একই মাঠে ফের নামতে চলেছে ১৫ বছরের এই বিস্ময় কিশোর। এবার প্রতিপক্ষ গুজরাত টাইটান্স। লক্ষ্য একটাই— আরও একবার দাপট দেখিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে, গুজরাতের সামনে এটাই শেষ সুযোগ। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে একেবারেই নিজেদের খেলাটা খেলতে পারেননি শুভমান গিলরা। লিগ পর্বে প্রথম দু’য়ে থাকার সুবাদে দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছে তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইনালে উঠতে মরিয়া টাইটান্স শিবির। তবে তার আগে থামাতে হবে বৈভব ঝড়।

চলতি আইপিএলে এখন সবচেয়ে বড় চমক নিঃসন্দেহে বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছে বিহারের তাজপুরের এই বাঁ-হাতি ওপেনার। ইতিমধ্যেই কমলা টুপির মালিক সে। ১৫ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৬৮০ রান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তার সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রথম বল থেকেই বোলারদের উপর চড়াও হওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে বৈভবের। সামনে যত বড় নামই থাকুক, তার ব্যাটের সামনে কাউকেই আলাদা গুরুত্ব দিতে দেখা যায় না।

জসপ্রীত বুমরা, মিচেল স্টার্ক কিংবা লকি ফার্গুসনের মতো বোলাররা আগেই তার ব্যাটের ঝড় টের পেয়েছেন। এলিমিনেটরে প্যাট কামিন্সও রেহাই পাননি। এক ওভারে তিনটি ছক্কা-সহ ২৫ রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় রাজস্থান। ফলে শুক্রবার মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা কিংবা প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাদের উপর বাড়তি চাপ থাকবেই।

তবে রাজস্থানের একটা চিন্তার জায়গাও রয়েছে। দলটা অনেকটাই নির্ভর করছে বৈভব ও জোফ্রা আর্চারের উপর। বৈভব রান না পেলে বা আর্চার শুরুতেই উইকেট তুলতে না পারলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ওপেনিংয়ে বৈভবের দাপটে যশস্বী জয়সওয়ালের অবদান অনেক সময় আড়ালে চলে যাচ্ছে। যদিও তিন নম্বরে ধ্রুব জুরেল নিয়মিত রান পাচ্ছেন। কিন্তু রিয়ান পরাগ ও রবীন্দ্র জাদেজার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।

বোলিংয়ে অবশ্য আর্চার দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। গত ম্যাচেও তিনটি উইকেট নিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই গতিতারকা। সঙ্গে রয়েছেন নান্দ্রে বার্গার। স্পিন বিভাগে রাজস্থানের ভরসা জাদেজা।

গুজরাতের শক্তি অবশ্য তাদের টপ অর্ডার। শুভমান গিল, সাই সুদর্শন ও জস বাটলার— তিনজনই ভাল ছন্দে রয়েছেন। সুদর্শনের ঝুলিতে ইতিমধ্যেই ৬৫২ রান। কমলা টুপির দৌড়েও রয়েছেন তিনি। অধিনায়ক শুভমানের সংগ্রহও ৬১৮ রান। ফলে এই তিন ব্যাটার শুরুটা ভাল করলে চাপে পড়তে পারে রাজস্থান।

তবে গুজরাতেরও দুর্বলতা রয়েছে। মিডল অর্ডার এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে ভরসা দিতে পারেনি। যদিও বোলিং বিভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী। সিরাজ, রাবাডা, প্রসিদ্ধদের পাশাপাশি স্পিনে রশিদ খান যে কোনও ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন একাই।

সব মিলিয়ে শুক্রবার নিউ চণ্ডীগড়ে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। একদিকে তরুণ বৈভবের আগুনে ফর্ম, অন্যদিকে গুজরাতের অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ— দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলাই যায়।