ছয় ম্যাচের হারের ধাক্কায় চাপে পাঞ্জাব, প্লে-অফের স্বপ্ন বাঁচাতে লখনউয়ের বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প নেই

একসময় মনে হচ্ছিল প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়া পাঞ্জাব কিংসের জন্য শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রথম সাত ম্যাচে ছয়টি জয় তুলে নিয়ে দুরন্ত ছন্দে ছিল দলটি। কিন্তু তারপরই ছবিটা বদলে যায়। টানা ছয় পরাজয়ে তাদের প্লে-অফের পথ জটিল হয়ে উঠেছে।

১৩ ম্যাচ শেষে শ্রেয়স আয়ারদের সংগ্রহ ১৩ পয়েন্ট। শনিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারাতে পারলে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ১৫। কিন্তু তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। শেষ চারের দৌড়ে এখনও একাধিক সমীকরণ জড়িয়ে রয়েছে।

পাঞ্জাবের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে রবিবারের ম্যাচগুলির উপরও। যদি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে দেয় রাজস্থান রয়্যালস, তাহলে পাঞ্জাবের প্লে-অফের আশা শেষ হয়ে যেতে পারে। আবার কলকাতা নাইট রাইডার্স যদি দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারায়, সেক্ষেত্রে হিসাব গড়াবে নেট রান রেটের দিকে। সেই লড়াইয়ে আপাতত কলকাতার তুলনায় সামান্য এগিয়ে রয়েছে পাঞ্জাব। তবে এসব অঙ্কের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল লখনউকে হারানো। জিততে না পারলে অন্য কোনও সমীকরণেরই আর মূল্য থাকবে না।

পাঞ্জাবের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা তাদের শীর্ষ সারি। কিন্তু মরশুমের প্রথম ভাগে যাঁরা ধারাবাহিকভাবে রান এনে দিচ্ছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের ব্যাট অনেকটাই নীরব। প্রিয়াংশ আর্য শেষ সাত ইনিংসে মাত্র একটি অর্ধশতরান করতে পেরেছেন। প্রভসিমরন সিংয়ের অবস্থাও প্রায় একই। শেষ পাঁচ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র একটি পঞ্চাশের ইনিংস।

অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও প্রত্যাশামতো ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। টানা ছয় হারের এই সময়ে তাঁর ব্যাট থেকেও এসেছে মাত্র একটি অর্ধশতরান। ফলে দলের ব্যাটিং বিভাগে চাপ স্পষ্ট।

অবশ্য প্রতিপক্ষ লখনউ সুপার জায়ান্টসের অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। শেষ দশ ম্যাচে তারা জিতেছে মাত্র দুটি। সম্প্রতি বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে সাত উইকেটের হারও মেনে নিতে হয়েছে ঋষভ পন্থদের।

তবু লখনউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিজেদের মাঠ একানা স্টেডিয়ামে শেষ দুটি ম্যাচ জিতেছে তারা। পাশাপাশি মিচেল মার্শ এবং জস ইংলিসের ব্যাটে রান ফেরাও দলকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

ফলে শনিবারের ম্যাচটি কার্যত দুই দলের কাছেই সম্মান এবং সম্ভাবনার লড়াই। লখনউ হয়তো টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে, আর পাঞ্জাব নামবে বাঁচা-মরার ম্যাচ খেলতে। প্লে-অফের দরজা খোলা রাখতে হলে শ্রেয়সদের কাছে জয়ের কোনও বিকল্প নেই। এখন দেখার, চাপের মুখে পাঞ্জাব ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।